৬৫ মিলিয়ন ডলার আয় করলেন এ নারী, কিন্তু কিভাবে?

বিডি নিউজ ৬৪: ১৯৮৭ সালে আর্মেনিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে অভিবাসী হয়ে যান অ্যানি স্যাফইয়ান। ৩২ বছর বয়সী সে নারী তার স্বামী ও নয় বছর বয়সী চেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে তিনি ৬৫ মিলিয়ন ডলারের মালিক। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পদার্পণ
অ্যানির বিপুল এ অর্থ উপার্জনের পেছনে রয়েছে তার প্রতিষ্ঠান স্যাডা সিস্টেমস। এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা মোটেই সহজ কাজ ছিল না। প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি প্রযুক্তি বিষয়ক কোনো জ্ঞানও কাজে লাগাতে পারেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি প্রথমে অ্যাকাউন্টিং শেখেন। এরপর পেরোল কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। সে কাজটি তার পছন্দ হয়নি। তাই তিনি গ্রাফিক ডিজাইনিং শুরু করেন। এ কাজটি তার পছন্দ হয়েছিল। এরপর তিনি ওয়েবসাইট তৈরি শুরু করেন। তার স্বামীও প্রোগ্রামিং শুরু করেন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গঠন
এরপর ধীরে ধীরে তারা প্রযুক্তি বিষয়ে নানা জ্ঞান অর্জন করেন। এ সময় একটি অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার মডিফাই করার কাজ পান তারা। অ্যানি তার স্বামীর সহায়তায় এ কাজটি সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেন। এরপর স্যাডা সিস্টেমস নামে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেন তারা। প্রতিষ্ঠানটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও কাস্টম অ্যাপ তৈরি ও সরবরাহ করে।
গুগলের সঙ্গে কাজ
একদিন প্রতিষ্ঠানটিতে গুগলের পক্ষ থেকে একটি ফোন আসে। এটি ২০০৭ সালের ঘটনা। টেক জায়ান্ট গুগল তাদের গুগল অ্যাপসের জন্য স্যাডা সিস্টেমসের সহায়তা চায়। গুগলের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছিল তাদের ইমেইল ও ডকুমেন্টস গুগল অ্যাপস-এ যেন সহজে পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করা। এ সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি অ্যানিও চান গুগল অ্যাপ বিক্রি করার পার্টনারশিপ। ফলে গুগলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন অ্যান।
মাইক্রোসফটের সঙ্গে কাজ
এরপর মাইক্রোসফটের সঙ্গেও কাজ শুরু করেন অ্যান। তার প্রতিষ্ঠান গুগলের সঙ্গে কাজ শুরুর পর মাইক্রোসফটও চায় তাদের ক্লাউড পণ্য ও অফিস ৩৬৫ বিক্রির জন্য পার্টনারশিপ। আর এতে আরও বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয় স্যাডা সিস্টেমস।
প্রতিষ্ঠান বড় হওয়া
শুধু গুগল কিংবা মাইক্রোসফটই নয়, আরও বহু প্রতিষ্ঠানই স্যাডা সিস্টেমস-এর সঙ্গে কাজ করতে এগিয়ে আসে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আয়ও বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। কিন্তু এ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সামনে অফার আসে আরও বড় অর্থের।
বড় প্রস্তাবেও ‘না’
অ্যান জানান, তার প্রতিষ্ঠানটিকে বিপুল অর্থ দিয়ে কিনে নিতে চায় বিভিন্ন টেক জায়ান্ট কোম্পানি। কিন্তু অ্যান জানান, প্রচুর অর্থের প্রস্তাব পাওয়ার পরেও তিনি তা ছাড়ছেন না। এ বছর তার প্রতিষ্ঠানের আয় হয়েছে ৬৫ মিলিয়ন ডলার। এর চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিতে চাইছে নানা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তিনি এটি হাতছাড়া করতে চাইছেন না। কারণ এ প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *