অবশেষে ছিনিয়ে নেওয়া পেট্রল ফেরত দিলেন ওসি

বিডি নিউজ ৬৪: কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাকিতে পেট্রল বিক্রি না করার অপরাধে দোকানে ঢুকে বোতলে ভরা প্রায় ৫০ লিটার পেট্রল ছিনিয়ে নেওয়ার সাত ঘণ্টা পর তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে থানার এসআই আতিকুর রহমান জোরপূর্বক ওই পেট্রল থানায় নিয়ে যান। একই দিন রাত ৯টার দিকে থানার ওসি দোকানদারকে ডেকে ওইসব পেট্রল ফেরত দেন। তবে একজন এসআই দোকানে ঢুকে জোরপূর্বক পেট্রল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

রৌমারী থানা মোড় চত্বরের পেট্রল বিক্রেতা আলম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আতিকুর রহমান নামের ওই দারোগা সকালে এক লিটার পেট্রল বাকিতে কিনে নেন। দুপুরে আবার বাকিতে পেট্রল চাইলে আমি তা দিতে অস্বীকার করি। কেননা এর আগে রমজান মাসে বাকিতে নেওয়া ৯ লিটার পেট্রলের দাম ওই দারোগার কাছে পাবো। যা দীর্ঘদিনেও পরিশোধ করেননি তিনি। বাকিতে পেট্রল বিক্রি না করার অপরাধে ওই দারোগা আমাকে নানা ভয়ভীতি ও হুমকিধামকি দেন। একপর্যায়ে দোকানে ঢুকে বোতলে ভরা প্রায় ৫০ লিটার পেট্রল ছিনিয়ে নেন।”

রৌমারী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি প্রদীপ সাহা বলেন, “একজন এসআই দোকানে ঢুকে এভাবে মালামাল নিতে পারেন না। আমার দোকানদারের কোনো অপরাধ থাকলে তার জন্য আইন রয়েছে। কিন্তু তিনি তা না করে পুলিশি ক্ষমতা দেখিয়েছেন যা আমরা মেনে নিতে পারি না। তাছাড়া আমি জানতে পেরেছি পেট্রল বাকিতে না দেওয়ার অপরাধে ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আতিকুর রহমান বলেন, “ওই দোকানদার আমার সঙ্গে বেয়াদবি করেছিল। তাছাড়া দাহ্য পদার্থ পেট্রল বিক্রি করার সরকারি অনুমিত নেই। এ কারণে ওই পেট্রল-অকটেনের বোতল সিজ করে নিয়ে আনা হয়েছিল এবং তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।” আপনি বাকিতে পেট্রল চেয়েছিলেন কিনা এবং এর আগেও বাকিতে পেট্রল নিয়ে টাকা পরিশোধ করেননি- এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাকিতে পেট্রল নিয়েছিলাম এটা ঠিক, টাকাও দিয়েছি। তবে কিছু টাকা পাবে।”

এ ব্যাপারে রৌমারী থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, “দোকানদারের সঙ্গে ওই এসআই’র ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তা আমি মীমাংসা করে দিয়েছি। দোকান থেকে আনা পেট্রলও ফেরত দিয়ে দিয়েছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *