বিডি নিউজ ৬৪: দাম্পত্য জীবনের নানা জটিলতা নিয়ে পেরেশান দম্পতিরা। এর জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। সম্পর্ক বিষয়ক জটিলতা নিয়ে থেরাপিস্ট বা বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হতে বলেন সবাই। কিন্তু অনেকেরই সময় ও সুযোগ মেলে না। এ কারণে তাদের কাছে চিঠি আকারে সমস্যা কতা জানিয়ে পরার্মশ চান অনেকে। এখানে দেখে নিন, একজনের চিঠি এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।
সমস্যা : যখন আমরা বিয়ে করি তখন আমার স্ত্রী ঠিক করে যে সে চাকরি বা ব্যবসা করবে না। এই চিন্তা নিয়ে সে টানা ৩ বছর বাড়িতেই থাকেন। আর ওই সময়টাই ছিল আমাদের বিবাহিত জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। সে তখন বাড়ি, সংসার এবং আমার দেখাশোনা করতো। কিন্তু মাঝে মধ্যে আমার খুব খারাপ লাগতো। কারণ সে ছিল শিক্ষিত নারী। তাই একটা সময় তাকে চাকরির উৎসাহ জোগাতে থাকি। সে কর্পোরেট জগতে প্রবেশ করলো। সে ভালো চাকরি পেলো, নিয়মিত বেতন বাড়তে থাকলো এবং একটা পর্যায়ে সে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠলো। আর এ পর্যায়েই এসে সে সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়লো। এমনকি এখন পর্যন্ত আমরা সন্তানের বাবা-মা হতে পারিনি। আমি যতবার এ বিষয়ে কথা তুলেছি সে না করে চলেছে। আমি তার সফলতায় হিংসায় জ্বলছি না। কিন্তু আমার এখন মনে হচ্ছে, এ অবস্থার চাইতে তার বাড়িতে থাকাই ভালো। পরিস্থিতি এখন কিভাবে সামাল দেবো?
সমাধান : এ সমস্যায় সমাধান দিয়েছেন ব্রিটিনের নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির পজিটিভ অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ বিভাগের রিসার্চ স্কলার শোয়েতা আনন্দ। বলেন, প্রথমেই আপনাকে স্ত্রীর প্রতি সহযোগী মনোভাব আনুন। তার ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহ জোগানো উচিত। এটা ঠিক যে নারীকে ঘর-সংসারের বেশিরভাগটাই সমালাতে হয়। তাই বলে এ কারণে তার ক্যারিয়ার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই যুগ মূলত পেশাজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন সামাল দিয়ে চলার যুগ। যেকোনো সমস্যায় দুজনের মধ্যে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক আলাপচারিতা জরুরি হয়ে পড়ে।
শোয়েতা আরো বলেন, আমি নিশ্চিত যে আপনার স্ত্রী তার সংসারের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। আপনার স্ত্রী হয়তো পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন। স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে থাকলে তা আরো দীর্ঘায়িত করুন। বাস্তবতার ভিত্তিতে দুজন দুজনকেই বোঝানোর চেষ্টা করুন। এটা বিবাদের বিষয় নয়। আলোচনা করুন। দুজনের যুক্তি তুলে ধরুন। এতে করে দুজনই একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল