ড্রাগ বিতর্কে অলিম্পিকের পুলে ঝড়!

বিডি নিউজ ৬৪: মাইকেল ফেলপস সরাসরি পক্ষ নিলেন স্বদেশি টিনএজার লিলি কিংয়ের। অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ বললো তাদের সাঁতারু ম্যাক হর্টনের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। ঘটনা দুটি ভিন্ন। কিন্তু মিল এক জায়গায়। ডোপ পাপের ইতিহাস আছে এমন খেলোয়াড়ের সাথে লড়ে সোনা জিতেছেন লিলি ও হর্টন। দুজনই প্রতিদ্বন্দ্বী একজনকে ‘ড্রাগ পাপী’ বলে বিতর্ক ছড়িয়েছেন। যে বিতর্কে কিংবদন্তি ফেলপস জ্বালানি দিলেন। সব মিলিয়ে ড্রাগ বিতর্ক এখন রিওর অলিম্পিক পুলে ঝড় উঠছে।

এই অলিম্পিকে ড্রাগ সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয়। এই পাপেই রাশিয়া দলের একটি বড় অংশ অলিম্পিকে আসতে পারেনি। অনেকে নিষেধাজ্ঞার সাথে লড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদেরই একজন ইউলিয়া এফিমোভা। তাকে ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে হারিয়ে সোনা জিতেছেন ১৯ বছরের মার্কিন নারী লিলি। ইউলিয়া রুশ দলের সেই ৬জনের একজন যারা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করে রিও অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছেন। লিলির পেছনে থেকে ২৪ বছরের ইউলিয়া জিতেছেন রুপা। লিলি বলেছেন, ইউলিয়ার মতো ড্রাগ পাপীকে তিনি কোনো প্রতিযোগিতায় দেখতে চান না।

১৯টি অলিম্পিক সোনা জেতা ফেলপস স্বদেশী লিলির পক্ষ নিয়ে রাগ ঝেড়েছেন, “অনেক মানুষকেই এ নিয়ে কথা বলতে দেখবেন। সে ঠিকই বলেছে মনে হয়। কিছু একটা করা দরকার।” ইউলিয়া ১৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন ২০১৫ সালে। গত মার্চে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছিলেন। আপিল করে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে অলিম্পিকে লড়ছেন।

লিলি-কিং ঘটনার আগে আরেক ঘটনা ঘটেছে পুলে। গত অলিম্পিকে ফেলপসের সমান দুটি ফ্রিস্টাইল ব্যক্তিগত ইভেন্টের সোনা জেতার রেকর্ড চীনের সান ইয়াংয়ের। সেবার চীনকে ইতিহাসের প্রথম সোনা জিতিয়েছিলেন। এবার ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সোনা ধরে রাখতে পারলেন না। রুপা জিতলেন হর্টনের পেছনে থেকে। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হর্টন সানকে ‘ড্রাগ পাপী’ বলে বিতর্ক ছড়িয়েছেন। চীনের অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ হর্টনকে সানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলে। অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ সেই দাবি উড়িয়ে দেয়। ভালো একটা স্নায়ু যুদ্ধ চলছে।

সান অবশ্য হার মানেননি। বিতর্কের ভেতরেই ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের শিরোপা জিতে জবাব দিয়েছেন। তাতে প্রথম অলিম্পিক সাঁতারু হিসেবে তিনটি ফ্রিস্টাইল ব্যক্তিগত ইভেন্ট জেতার রেকর্ড গড়েছেন। আর এমন কীর্তির পর সান বলেছেন, “বাইরের কথাবার্তায় বিভ্রান্ত না হওয়ার চেষ্টা করেছি। নিজের মতো লড়তে চেয়েছি।” ২৪ বছরের সান ২০১৪ সালে ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হয়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা খেটেছেন।

সান ও ইউলিয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে অলিম্পিক শেষ হলেও এই ড্রাগ বিতর্ক পিছু ছাড়বে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *