শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন যেভাবে

বিডি নিউজ ৬৪: শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার সময় হয়ে আসলে আপনি হয়তো বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন। ঠিক যেমন করে আপনি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে অভ্যস্ত করার সময়ে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। দু্ই ক্ষেত্রেই হুট করে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। এখানে রইলো শিশুকে বুকের দুধ ছাড়ানোর কৌশল সম্পর্কিত কয়েকটি পরামর্শ:
ধীরে শুরু করুন
আপনার শিশুর বয়স যতই হোক না কেন তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার প্রক্রিয়া একটু ধীরে-সুস্থে শুরু করাই ভালো। আপনি যদি হুট করেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানে বন্ধ করে দেন তাহলে আপনার স্তন থেকে তরল পদার্থ বের হওয়া অব্যাহত থাকবে। এমনকি আপনি মাসটিটিস বা স্তনগ্রন্থির স্ফীতি এবং প্রদাহ রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান এমন মায়েদের ১০ শতাংশকেই এই ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
মাসটিটিস শুধু যে বেদনাদায়ক তা নয় বরং তা আপনাকে দুর্দশাগ্রস্তও করে তুলবে। এমনকি এর ফলে স্তনে বিষ ফোঁড়ারও সৃষ্টি হতে পারে। যা সারানোর জন্য অপারেশন করা এমনকি হাসপাতালেও ভর্তি করানোর প্রয়োজন হতে পারে।
সূতরাং একদিনে মাত্র একবেলা করে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করুন। এরপর কিছুদিন অপেক্ষা করুন যাতে এর সঙ্গে আপনার দেহ মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। প্রথমে দিনের মধ্যভাগের বেলায় দুধ খাওয়ানো বন্ধ করুন। কারণ হঠাৎ করে দিনের শুরুতে বা শেষের বেলার চেয়ে মধ্য বেলায় দুধ খাওয়ানে বন্ধ করাটা সহজ। কেননা দিনের শুরুতে বা শেষে শিশুর যত্ন নেওয়াটা বেশি দরকারি। এরপর আপনি প্রতিবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়টুকুও সংক্ষিপ্ত করে আনা শুরু করতে পারেন।
অপেক্ষা করুন
আপনার যদি মাসটিটিস হয়ে থাকে তাহলে তা ভালো না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখাই ভালো। এছাড়া আপনি যদি স্থানান্তরিত হন, জীবনের নতুন কোনো ধাপে প্রবেশ করেন বা নতুন চাকরি শুরু করেন তাহলে এখনই আপনার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা থেকে বিরত থাকুন।
অনেক সময় কোনো কোনো মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে গিয়েও তা করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে কিছুদিন অপেক্ষা করার পর পুনরায় চেষ্টা করা যেতে পারে।
হাত দিয়ে চেপে বের করুন
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করার পরও যদি আপনার স্তনগুলো পূর্ণ অনুভুত হয় তাহলে হাত দিয়ে চেপে বা পাম্প করে সামান্য পরিমাণে দুধ বের করে ফেলুন। নতুন অভ্যাসের সঙ্গে আপনার দেহকে মানিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত এটা করুন। এতে মাসটিটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রেহাই পাবেন।
ধৈর্য্য ধরুন
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে দু্ই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে এ বিষয়টি আপনার শিশুর সহনশীলতার ওপরও নির্ভর করছে। আপনার শিশু যদি সহজেই কোনো পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত হয়ে থাকে তাহলে অল্প সময়েই এটা করা সম্ভব। কিন্তু আপনার শিশুটি যদি সহজেই কোনো পরিবর্তন মেনে নিতে না পারে তাহলে তা আপনাদের দুজনের জন্যই সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
শিশুর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিন
একবার যদি কোনো শিশু দুধ খেতে চায় তাহলে তাকে তা থেকে বিরত রাখাটা একটু কঠিনই হতে পারে। ফলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার সময়টুকুতে এই কৌশল গ্রহণ করুন- শিশু না চাইলে তাকে দুধ খাওয়াতে যাবেন না আবার খেতে চাইলে না করবেন না। আর খেয়াল রাখুন আপনার শিশু যেন তৃষ্ণার্ত বা ক্ষুধার্থ না থাকে। তাহলেই সে আর বুকের দুধ খেতে চাইবে না।
বুকের দুধের বদলে অন্য কিছু খাওয়ান
বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার সময়টুকুতে আপনার শিশুটির পাশে তার প্রিয় কম্বল, বই বা খেলনাটি নিয়ে বসুন। এবং দিনের যে কোনো সময়েই তাকে অন্য কিছু খাওয়ানোতে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করুন। শিশুটিকে প্রচুর পরিমাণে আদর করুন যাতে সে বিচ্ছিন্নতাবোধে আক্রান্ত না হয়।
রুটিন পরিবর্তন করুন
শিশুকে আগে যে সময়ে বা যে স্থানে বসে দুধ খাওয়াতেন তা পরিবর্তন করুন। আগে যদি আপনি শিশুকে রাতে দুধ খাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে তাকে দুধ ছাড়ানোর সময়ে আপনার স্বামীকে জেগে থেকে শিশুর যত্ন নিতে বলুন।
শিশুকে দিয়েই দুধ খাওয়ানো বন্ধ করান
একটু বেড়ে ওঠা শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো, তাকে নিজে নিজেই বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ করার সুযোগ করে দেওয়া। কারণ অল্পতেই বেড়ে ওঠা শিশুরা সহজেই বুকের দুধ খাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সূতরাং আপনি তার ওই অনীহার সুযোগ নিয়ে ধাপে ধাপে তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন।
হাতে চেপে দুধ বের করে শিশুকে খাওয়ান
এতে অনেক সময়ের অপচয় এবং একটু অসুবিধাও হতে পারে। তবে আপনি যদি নির্দিষ্ট সময়ের পরেও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে চান তাহলে হাতে চেপে দুধ বের করে তা সংরক্ষণ করুন। যাতে যখন ইচ্ছে তখন খাওয়ানো যায়।
নিজের প্রতি দয়াবান হন
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার সময় শরীরে যে হরমোনগত পরিবর্তন সাধিত হয় তার ফলে এবং জীবনের নতুন একটি ধাপে প্রবেশের কারণে এই সময়ে আপনার মধ্যে মিশ্র অনুভুতির সৃষ্টি হতে পারে। হতে পারে আপনি দুঃখ বোধে আক্রান্ত হলেন। আবার পাশাপাশি জীবনের একটি পর্যায় শেষ হওয়ার ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলতে পারেন আপনি।
তবে মনে মনে একথাটিই শুধু ভাববেন যে, আপনি যা করেছেন তা আপনার শিশুর ভালোর জন্যই করেছেন। আপনার নিজের এবং শিশুর জন্য কোনো একটি উপকারী কাজ শেষ করেছেন নিজেকে আপনি এমন বোধই দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *