যৌনতায় সহস্রাব্দ প্রজন্মের আগ্রহ কম কেন?

বিডি নিউজ ৬৪: সহস্রাব্দ প্রজন্ম তাদের আগের প্রজন্মের চেয়ে অনেক কম যৌন সহবাস করছেন। ব্রিটেনের আর্কাইভস অফ সেক্সুয়াল বিহেভিওর জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ফ্লোরিডার আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে সহস্রাব্দ প্রজন্মের ২০-২৪ বছর বয়সীদের ১৫% জানিয়েছেন ১৮ বছরে পা দেওয়ার পর থেকে তাদের কোনো যৌনসঙ্গী ছিল না। ১৯৬০ এর দশকে জন্ম নেওয়াদের মধ্যে মাত্র ৬% বলেছেন ওই বয়সে তাদের কোনো যৌন সঙ্গী ছিল না।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, উন্নত যৌন শিক্ষা এবং পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এর পেছনের একটি কারণ হতে পারে। নৃবিজ্ঞানী এবং ম্যাচ ডটকম এর প্রধান বিজ্ঞান উপদেষ্টা ড. হেলেন ফিশার বলেন, সহস্রাব্দ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা প্রধানত দুটি কারণে পরস্পরের সঙ্গে বিছানায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।
প্রথমত, সহস্রাব্দ প্রজন্ম তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্খী। আর দ্বিতীয়ত, সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে আগের প্রজন্মের চেয়ে তারা অনেক বেশি সাবধানী।
বিজনেস ইনসাইডারকে এক সাক্ষাৎকারে হেলেন বলেন, “আজকের তরুণরা অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্খী প্রজন্ম।” তার বিশ্বাস, “সহস্রাব্দ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা যৌনতা এবং প্রেম-ভালোবাসার চেয়েও তাদের ক্যারিয়ারকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। এ কারণে কোনো স্থায়ী সম্পর্কে জড়ানোর আগে তারা নিয়মিত যৌন মিলনের বিষয়টিও স্থগিত রাখছে।”
হেলেন ফিশার বলেন, “একজন ব্যক্তি যত বেশি উচ্চশিক্ষা ও উপার্জনের ক্ষমতা অর্জন করে এবং তার সামাজিক প্রতিপত্তি যত বেশি হয় সেই ব্যক্তি ততবেশি উচ্চ মান সম্পন্ন জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনি পেতে চান।”
কোনো ব্যাক্তি তার জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনির সঙ্গে প্রেম ভালোবাসা বিনিময়ে যতবেশি সৃজনশীল তিনি ততবেশি মান সম্পন্ন জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনি হিসেবে বিবেচিত হন। আর সহস্রাব্দ প্রজন্ম হয়তো এই কারণেই যৌন মিলন এড়িয়ে চলছে। কারণ তারা মনে করে সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে রোমান্টিকতায় সৃজনশীল হওয়াটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন। আর কোনো সম্পর্কে জড়ানোর আগে তারা জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনি হিসেবে নিজেদের সেই মান বাড়ানোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তবে বিয়েতে আগ্রহী না হয়েও যে ছেলে-মেয়েরা যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে এর পরিণতিতে তারা পরস্পরের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সম্পর্কবদ্ধ এবং প্রেমে পড়ার প্রবণতা প্রদর্শণ করছে। কারণ বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হলে রোমান্টিক প্রেম-ভালোবাসার অনুভুতি কেমন হতে পারে তার অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়। এই অভিজ্ঞতা লাভ করা যায় চুড়ান্ত যৌন সুখানুভুতির মাধ্যমে। নারী-পুরুষ উভয়েই যখন চুড়ান্ত যৌন সুখানুভুতি লাভ করে তখন তাদের দেহে অক্সিটোসিন নামের একটি হরমোর নিঃসরিত হয় যা তাদের মাঝে পারস্পরিক অনুরাগ বাড়িয়ে তোলে। মোদ্দা কথা হলো, স্থায়ীভাবে সম্পর্কবদ্ধ হওয়ার আগে যৌন মিলন একেবারেই অর্থহীন নয়। এর মধ্যমেই বরং নারী-পুরুষের মাঝে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অনলাইন ডেটিংয়ের সমস্যা সম্পর্কে বলতে গিয়ে হেলেন ফিশার বলেন, “অনলাইন ডেটিংয়ে এতো বেশি লোকের সঙ্গে পরিচয় হয় যে মানব মস্তিষ্ক তার চাপ সইতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যত বেশি লোকের সঙ্গে পরিচিত হন ততই তাদের কারো সঙ্গে তার সম্পর্কে জড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসে।
আর সহস্রাব্দ প্রজন্মের তরুণরা সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সাবধানী, যত্নবান, বাছাইপ্রবণ এবং উচ্চাকাঙ্খী। এর কারণ সম্ভবত নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগই একক পরিবার থেকে আসা এবং ডিভোর্সী বাবা-মায়ের সন্তান। ফলে নিজেদের জীবনে তারা বিয়ে বিচ্ছেদের মতো যন্ত্রণাদায়ক ঘটনা এড়িয়ে চলতে চান।
আর যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি সামাজিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ হয়ে আসা সত্ত্বেও তরুণরা যৌন সম্পর্কে জড়াচ্ছে কম। কারণ তারা অন্য কিছু করতে চাইছে। এমন কিছু যা তাদের জীবনকে হয়তো আরো বেশি অর্থপূর্ণ করে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *