আমেরিকান ফোর্সের সামনে যখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ মিলিটারি ফোর্স

বিডি নিউজ ৬৪: ইউএস কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়, চীনের আর্মড ফোর্সেস-এর ২.৩ মিলিয়ন সদস্য সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে আমেরিকা। আর এ বিষয়ে পশ্চিমা মিলিটারি বিশ্লেষকদের ভুল ধারণাকেও স্পষ্ট করা হয়।

ওই রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, চীনের আদর্শ ও সাংস্কৃতির সংঘাতকে না বোঝা পর্যন্ত পশ্চিমারা কখনো চীনের মিলিটারি এবং তাদের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে বুঝতে পারবেন না।

ইউএস-এর মতো নয় চীন। তাদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া রয়েছে। কাজেই স্বাধীন কোনো মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের মিলিটারি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় না।

এ ছাড়া আগ্রসী ভূমিকা গ্রহণের ক্ষেত্রেও চীনের মৌলিক নীতিগত সিদ্ধান্ত কিছু ভিন্ন। শান্তি এবং যুদ্ধ উভয় ক্ষেত্রে তাদের সাইবার এসপিওনাজের গতিপ্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। তারা আসলে আমেরিকার কাছ থেকে তথ্য চুরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটায়।

এশিয়ান এফেয়ার্সের সিআরএস বিশ্লেষক ইয়ান ই রাইনহার্ট এই রিপোর্টটি লিখেছেন। তিনি মার্কিন কংগ্রেসকে ‘চীনের যুদ্ধংদেহী মনের গতিপ্রকৃতি’ বুঝতে তাগাদা দিয়েছেন।

চীনের জনসংখ্যা আমেরিকার চেয়ে ৪ গুন বেশি। সে দেশের  ২.৩ মিলিয়ন মানুষ নিরাপত্তা সেবায় নিয়োজিত। মিলিটারি পুলিশ হিসাবে রিজার্ভে রয়েছেন ১.১ মিলিয়ন মানুষ। আমেরিকার এ অংশে যুক্ত ১.৪ মিলিয়ন মানুষ। এটি সংখ্যায় কম। কিন্তু জনসংখ্যার তুলনায় মিলিটারি সার্ভিসে নিযুক্তির হার অনেক বেশি। গোটা বিশ্বে নজরদারিতে আমেরিকার বিভিন্ন পোস্ট রয়েছে। চীনের ওপন নজর রাখতে আমেরিকার অন্যান্য পোস্ট খালি করার কাজটিও অনেক কঠিন।

প্যাসিফিকসহ চীনের ওপর দৃষ্টি রাখতে আমেরিকান ফোর্সের সামান্য একটি অংশ কাজ করে। অন্যদিকে চীনের পুরো বাহিনী তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় নিয়োজিত এবং প্যাসিফিক নিয়ে সামান্য মনোযোগ ঢালে। পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) উন্নতি ও আধুনিকীকরণ বিষয়ে  সাইবার এসপিওনাজের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

চীন প্রচুর পরিমাণে পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে। একটু দেরিতে হলেও তারা গুণগত মানের ওপর নজর দিয়েছে। এতে করে তাদের সক্ষমতা অনেক বেড়ে গেছে। স্নায়ু যুদ্ধের পর তাদের ফোর্সে চতুর্থ প্রজন্মের এয়ারক্রাফটের সংখ্যা প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক হিসাবে বলা হয়, চীন তার জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় কর নিরাপত্তা খাতে। তবে এখানে কিছু বিতর্ক রয়েছে। এই ব্যয়ের ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখে না। মিলিটারি ব্যয় চীন কমিয়ে আনতে চায়। কিন্তু এ সংক্রান্ত যাবতীয় সংখ্যা স্বাধীনভাবে কেউ বিশ্লেণ করতে পারেনি। অন্যান্য খাতে ব্যয়ের তুলনায় নিরাপত্তা খাতে ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা খুব কঠিন বিষয়।

চীনের নৌবাহিনী তাদের টহলের অঞ্চল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়মিত খবরের শিরোনাম হয়ে থাকে। এর চারপামের দ্বীপমালা এবং সীমান্তের চারদিকের দেশগুলোর চারদিকে টহল বসানোর ক্ষেত্রে এরা বেশ তৎপর। এরা নাভাল ভেসেল, সাবমেরিন এবং অ্যান্টিশিপ ক্রুজ মিসাইলের উন্নতীকল্পে মনোযোগী।

সাবমেরিন ফ্লিটের সংখ্যা তারা ৬২ থেকে বৃদ্ধি করে ২০২০ সালের মধ্যে ৭৮টিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তারা বাড়তি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বানাচ্ছে। বর্তমান ভেসেলগুলোতেও এসব সুবিধা যোগ করছে।

আমেরিকার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যাম মিসাইল চীনের হাতে রয়েছে। এগুলো আমেরিকারগুলোর তুলনায় অনেক বেশি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। উন্নত মানের সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (এসএএমএস), অ্যান্টি-ক্রুজ মিসাইল (এএসসিএমএস), মিসাইল লাঞ্চ সেল এবং মাল্টি-মিশন ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল (এলএসিএমএস) বানানোর পথে তারা।

পিএলএ এয়ার ফোর্স ক্রমশ পশ্চিমা এয়ার ফোর্সের সঙ্গে সক্ষমতার দিক থেকে নিজেদের পার্থক্য দূর করে চলেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ইউএস এয়ার ফোর্সকে টপকে যাবে চীন। এ তথ্য জানান ইউএস এয়ার ফোর্স জেনারেল লরি জে রবিনসন। এ ছাড়া ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে চীন অনেক বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। লিখিত আকারে এদের সহসা দেখা মেলে না। কিন্তু বাহিনীর উন্নতিকল্পে এগুলো দারুণ কার্যকর।

বেশ কিছু অভবও রয়েছে। পরিবহনের কাজে তাদের যথেষ্ট হেলিকপ্টার নেই। এখনো তারা মেইনল্যান্ডের রেল যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে। চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গোলযোগ সামাল দিতে তারা ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে ২০২০ সালের মধ্যে।

মহাকাশে চীন মহা শক্তিধর। তারা ৭০টি মিলিটারি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে যোগাযোগের কাজে। এদিক থেকে তারা আমেরিকাকে যথেষ্ট দুর্বল বলেই মনে করে।

সাইবার খাতে চীনের তিন ধরনের ফোর্স কাজ করে বলে ধারণা করা হয়। প্রথমত, পিএলএ-এর মিলিটারি ওয়ারফেয়ার ফোর্সেস। দ্বিতীয়ত, পিএলএ অনুমোদিত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নেটওয়ার্ক ওয়ারফেয়ার। তৃতীয়ত, বেসরকারি সংস্থা। তারা সহজেই যেকোনো দেশের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। কিন্তু নিজেদের রক্ষা করে চলেছে।

তবে রিপোর্টে এও বলা হয়, কোনো স্থানে গিয়ে এমন কোনো অপারেশনে তারা এখনো দক্ষ নয় যার জয় কিনা তথ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভর করে।

চাইনিজ মিলিটারির দৃষ্টিভঙ্গী বুঝতে তাদের মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস বুঝতে হবে। অন্যান্য দেশের মিলিটারিকে বিশ্লেষণের যে উপায় রয়েছে তার ব্যবহারে চীনকে চেনা যাবে না। চীন বিশাল সেনাবাহিনীকে আধুনিক করে তুলছে। তার অর্থ এই নয় যে তারা আমেরিকাকে অনুসরণ করছে। এসব বলা হয় রিপোর্টে।

তবে জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যবহারে দারুণ এগিয়ে যাচ্ছে চীন। অভ্যন্তরীন প্রোপাগান্ডা, মুদ্রানীতিতে প্রভাব সৃষ্টি, সাইবার এসপিওনাজ এবং মিলিটারি খাতে তারা বেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকার প্রতি চীন যখন হুমকি, তখন চীনের সক্ষমতাকে কোনো অবস্থাতেই খাটো করে দেখা যায় না। যদিও চীন অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব থামাতে তৎপর। নিজের প্রয়োজনে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, নাকি অন্যদের জন্য হুমকি সৃষ্টিতে তা বিশেষজ্ঞদের বিতর্কের বিষয়। কিন্তু কৌশলের দিক থেকে চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে আমেরিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *