কোরবানির পশু জবাইয়ে খুলনায় ১৬০ স্থান নির্বাচন

বিডি নিউজ ৬৪: ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ১৬০টি স্থান নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কেসিসি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। গত বছর ৪৩টি স্থানে কোরবানির পশু জাবাই হয়।

পরিবেশ দূষণরোধে নির্দিষ্টস্থানে পশু কোরবানি করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থাকবে। নির্দিষ্টস্থানে পশু কোরবানির জন্য কেসিসি ১৬ দফা পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্টস্থানে পশু কোরবানি কার্যক্রম বাস্তবায়নে কেসিসির ৩১টি ওয়ার্ডে ৬৪ লাখ টাকা বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গভার্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের সিনিয়র সহকারী সচিব ইসমাত মাহমুদা এক দাপ্তরিক পত্রে খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে পশু জাবাইয়ের স্থান নির্বাচনের তথ্য চেয়ে পাঠায়। কেসিসির পক্ষ থেকে গেল সপ্তাহে স্থান নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হচ্ছে, ১ নং ওয়ার্ডের মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয় মাঠ, মহেশ্বরপাশা জাতীয় তরুণ সংঘ মাঠ, ২ নং ওয়ার্ডের অ্যাজাক্স জুট মিল ফুটবল খেলার মাঠ, রেলগেট কৃষ্ণমোহন স্কুল মাঠ, শষীভূষণ স্কুল মাঠ, ৪নং ওয়ার্ডের কলেজিয়েট স্কুল মাঠ, ৫ নং ওয়ার্ডের মহসিন স্কুল মাঠ, মিনাক্ষী হলের সামনে ঈদগাহ মাঠ, ৬নং ওয়ার্ডের পাবলা সবুজ সংঘ মাঠ, পাবলা কবির বটতলার সামনে খেলার মাঠ, ৭ নং ওয়ার্ডের কাশিপুর ফুটবল মাঠ, পদ্মারোড দাউদ মিয়ার বাড়ির সামনে, ৮নং ওয়ার্ডের খালিশপুর জুটমিল গেট, ৯নং ওয়ার্ডের বাস্তহারা কলোনি ঈদগাহ মাঠ, বৈকালী জানাজা চত্বর, ১০ নং ওয়ার্ডের নয়াবাটী হাজী শরিয়তউল্লাহ মাঠ, ১১নং ওয়ার্ডের প্লাটিনাম স্কুল ময়দান, ১২ নং ওয়ার্ডের স্যাটেলাইট স্কুল চত্বর, ১৩ নং ওয়ার্ডের চরের হাট, ২নং নেভিগেট, ১৪ নং ওয়ার্ডের রায়ের মহল ঈদগাহ মাঠ, ১৫ নং ওয়ার্ডের পোর্ট আবাসিক এলাকা, কাস্টমস আবাসিক এলাকা, ১৬ নং ওয়ার্ডের রায়ের মহল ঈদগাহ, ১৭ নং ওয়ার্ডের ছোট বয়রা সবুজ সংঘের মাঠ, ১৮ নং ওয়ার্ড তালিমুল মিল্লাত খালাসী মাদরাসা, ১৯ নং ওয়ার্ড কেডিএ এভিনিউ তেতুলতলা মোড়, আলীশান মোড়, ২০ নং ওয়ার্ডের জিন্নাহ মসজিদ চত্বর, ২১ নং ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের খোলা চত্বর, ২২ নং ওয়ার্ডের টাইন জামে মসজিদ, ২৩ নং ওয়ার্ডের গোলকমনি শিশু পার্ক, ২৪ নং ওয়ার্ডের নিরালা স্কুল মাঠ, ২৫ নং ওয়ার্ডের লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ, ২৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বানিয়াখামার হাই স্কুল মাঠ, ২৭ নং ওয়ার্ডের মিস্ত্রিপাড়া পৌর বাজার, ২৮ নং ওয়ার্ডের টুটপাড়া করের বাজার সংলগ্ন মাঠ, ২৯ নং ওয়ার্ডের আলিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণ, ৩০ নং ওয়ার্ডের তালতলা হাসপাতাল চত্বর, ৩১ নং ওয়ার্ডের চানমারী মাদরাসা মাঠ ও  পীর খানজাহান আলী (রঃ) সেতুর নিচে।

কেসিসির ভেটেনারী সার্জন মো. রেজাউল করিম জানান, নির্দিষ্টস্থানে পশু জবাই হলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে। সেই সাথে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যত্রতত্র জবাই হলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সুযোগ থাকবে না। সেই সাথে মশা, মাছি জন্ম নিতে পারে ও পানি দূষণ হতে পারে।

এদিকে পশু জবাই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য কেসিসির পরিবেশ উন্নয়ন স্থায়ী কমিটির এক সভা গত ২ আগস্ট কাউন্সিলর এসএম খুরশিদ আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কোরবানির পশু জবাই মনিটরিং করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরকে সভাপতি ও ওয়ার্ড সচিবকে সদস্য সচিব করে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পরামর্শে বলা হয়েছে, কোরবানির দিনে রক্তমাখা ছোরা নিয়ে কেউ ছোটাছুটি করতে পারবে না। কোরবানিদাতাদের মোবাইল নম্বর নগরভবনে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *