নিষ্ঠুর বাবাকে গুলি করে হত্যা করল কিশোরী

বিডি নিউজ ৬৪: যুক্তরাষ্ট্রে ঘুমন্ত বাবাকে খুন করেছে ১৪ বছরের এক কিশোরী মেয়ে। ধরা পড়ার পর পুলিশের কাছে মেয়েটি নিজের দোষ স্বীকার করেছে। সে বলেছে, মা ও ভাই-বোনদের ওপর দিনের পর দিন নিষ্ঠুর বাবার অকথ্য নির্যাতন সইতে না পেরে বুধবার সে ওই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

হত্যার পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। ওয়ারেন এলাকাটি ওহিওর দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় ক্লেভল্যান্ড শহর থেকে ৫৫ মাইল দূরে  অবস্থিত।

ওই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ক্লেভল্যান্ডের প্রসিকিউটর ইয়ান ফ্রেইডম্যান বলেন, ঘটনার দিন রাতে বরাবরের মতই বাড়িতে বাবা-মা ছাড়াও ওই কিশোরী ও তার আরো দুই ভাই-বোন উপস্থিত ছিল। তবে সে কি নিজের আত্মরক্ষা নাকি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য এই খুন করেছে সেটি স্পষ্ট নয়। এছাড়া স্থানীয় প্রসিকিউটররা কি এখনই মেয়েটির বিচার শুরু করবেন, নাকি তার বয়োপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন সে বিষয়েও কিছু জানেন না ফ্রেইডম্যান।

এদিকে নির্যাতনকারী স্বামীকে হত্যা করায় মেয়ের প্রশংসা করেছেন তার ৪১ বছরের মা। তিনি তার কিশোরী মেয়েকে ‘বীর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো জানান, স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে গত ৫ বছর আছে তিনি একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে তিনি তা প্রত্যাহার করে নেন।

এবিসি জানাচ্ছে, বুধবার গভীর রাতে বাবার বন্দুক দিয়েই ৪১ বছরের বাবাকে হত্যা করেছে ওই কিশোরী। এসময় তার বাবা লিভিংরুমের সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন। স্বামীর পাশেই মেঝেতে ঘুমাচ্ছিলেন তার মা। হত্যাকাণ্ডের দিন দুপুরে এবং সন্ধ্যাবেলায় স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন ওই নিহত ব্যক্তি। এতে পিতার প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছিল ওই মেয়ে।  যার পরিণতিতে ঘুমের মধ্যেই নিজের আত্মজাকে গুলি করে হত্যা করে সে।

ওই কিশোরীর ২০ বছরের এক ভাই এবং ১৯ বছর বয়সী আরো একটি বোন রয়েছেন। বুধবার ওই হত্যাকাণ্ডের সময় ওই দুজন বাড়িতেই ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর ফ্রেইডম্যান। আগামী ৩০ আগস্ট ওই হত্যা মামলার ওপর আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *