সন্ত্রাসী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে পাড়ায় মহল্লায় প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তুলতে হবে

বিডি নিউজ ৬৪: হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও নাস্তিক্যবাদ কোনটাই মুসলমানরা সহ্য করে না। আমরা সন্ত্রাসবাদকে যেমন ঘৃণা করি, একইভাবে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদিদের প্রতিহত করার সংগ্রামে নেমেছি। প্রয়োজনে আলেম ওলামা ও তাওহিদী জনতা সকল সন্ত্রাসী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে পাড়ায় মহল্লায় প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তুলবে।’

শুক্রবার বাদ জুমা চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেট চত্বরে মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। গুলশান, শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক জুমার খুতবায় অবৈধ হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে এ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা যেমন সন্ত্রাস, তেমনিভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে ক্রসফায়ার করে মারা ডাবল সন্ত্রাস।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। সার্বজনীন মানবতার ধর্ম হলো ইসলাম। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে অংশ। ওলামায়ে কেরাম হত্যা, নাশকতা ও উগ্রসন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অতীতেও ভূমিকা রেখেছে, এখনো রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। ইমাম-খতিবরা সবসময় মসজিদের মিম্বর থেকে সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, শান্তির বাণী প্রচার করে। মসজিদ আল্লাহর ঘর, কুরআন-হাদীস মতে খুতবা দেয়া হয়। সুতরাং খুতবা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। সারা দেশে আগুনের দাবানল জ্বলে উঠবে।’

দেশে যে হারে রাজনৈতিক জিঘাংসা, বোমাবাজি, খুন, গুম, অপহরণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি এবং টার্গেট কিলিং হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাবুনগরী বলেন, ‘দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্যে ক্ষমতাসীনদের হুমকি-ধমকি ও বন্দুকের ভয় দেখানো বন্ধ করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে ন্যায়-ইনসাফ এবং নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ ও রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সন্ত্রাসবাদ উৎখাত করার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দিন। তারা যাতে সঠিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। তার এই বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০১০ সালের ধর্মহীন শিক্ষানীতি বহাল রেখে কীভাবে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা হবে? সত্য হলো, সরকারের মন্ত্রী এমপি ও কর্তাব্যক্তিদের কথা ও কাজে কোনই মিল পাওয়া যায় না।’

মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আবু তাহের আরবী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা হাজী মুজাম্মেল হক, মাওলানা মীর ইদরিস, মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসউদ খান, হাফেজ  ফয়সাল, মাওলানা জয়নাল আবেদীন কুতুবী, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক, মাওলানা আমিন শরীফ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন রববানী, মাওলানা কুতুবুদ্দিন, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা জুনাইদ জওহর, মাওলানা রাকীব আল হাসান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা ওসমান কাসেমী প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনম আহমদুল্লাহ।

সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখান প্রেস ক্লাব চত্বরে গিয়ে মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *