বিডি নিউজ ৬৪: পায়ে হেঁটে নিয়মিত স্কুলে আসা-যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট। ‘হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয়’ স্লোগানে ‘সুস্থতায় স্কুলে হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ চাই’ ভিন্নধর্মী এ আয়োজন করা হয় রাজধানীর রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে। একই সঙ্গে স্কুলে আসা-যাওয়ায় রাস্তায় নিরাপদে হাঁটায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণীর প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা।
ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের আয়োজকদের তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ৫ মিনিটের দূরত্বে বসবাস করে। তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক পরিশ্রম না হওয়ায় শিশুরা অতিরিক্ত ওজন, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, নিদ্রাহীনতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং নেতিবাচক মানসিকতার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নগরে খেলার মাঠ না থাকা এবং বাসা বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিশুদের প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম হয় না। প্রতিদিন স্কুলে হেঁটে আসা-যাওয়া শিশুদের ওই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ সম্ভব হবে।
এছাড়া যানজটে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসায় বেশ সময়ও লেগে যায়, অপেক্ষা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। হেঁটে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমবে। যাতায়াত খরচও সাশ্রয় হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, হাঁটাপথে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মূখীন হতে হয়। গাড়ির বেপরোয়া গতি, গাড়ির হর্ণ, বৃষ্টির দিনে গাড়ির চাকা থেকে কাদা ছিটকে কাপড় ময়লা হওয়া, সরু রাস্তায় গাড়ি দেয়ালের দিকে ঘেঁষে চলা এবং যানজট অন্যতম সমস্যা। শিক্ষার্থীরা চিঠি লেখা, ওয়াকিং ক্লাব গঠনের মাধ্যমে হাঁটার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দময় পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন ১ ঘণ্টা শরীরিক পরিশ্রম করা অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু নগর জীবনে আমরা এ সুযোগ পাই না তাই হেঁটে যাতায়াতের মাধ্যমে আমরা আমাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারি।’
তিনি বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘বিদেশে পথচারীদের প্রাধান্য দিয়ে অবকাঠামো তৈরি করা হয়। আমাদের দেশেও যদি হেঁটে যাতায়াতের অনুকূল অবকাঠামো তৈরি করা হয় তবে জনগণ হেঁটে যাতায়াতে উৎসাহিত হবে এবং যানজট কমবে ও জ্বালানি চাহিদা হ্রাস পাবে।’ এ লক্ষ্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে তারাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।’
সংগঠনের সহকারী অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা নাঈমা আকতার বলেন, ‘রায়েরবাজার এলাকায় অধিকাংশ শিশুরা কাছাকাছি স্কুলে পড়ালেখা করে থাকে। এখানে নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে হাঁটার পরিবেশ তৈরি করা গেলে একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে। যা পরবর্তীতে অন্যান্য এলাকার জন্য অনুস্মরণীয় হতে পারে। এজন্য স্থানীয় অধিবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে। এছাড়া কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন্নেসা বলেন, ‘প্রতিটি কমিউনিটিতে সমমানের স্কুল থাকা এবং স্থানীয় স্কুলে শিশুদের পড়ালেখা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। যাতে করে অল্প দূরত্বে শিশুরা হেঁটে স্কুলে যেতে পারে। সম্প্রতি সরকার এ বিষয়টি বিবেচনা করে স্থানীয়দের জন্য স্কুলে ৪০ শতাংশ কোটা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিশুদের অল্প দূরত্বের মধ্যে হেঁটে স্কুলে যাতায়াতের পথকে সুগম করা যায়।’
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল