কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়াতে তীব্র স্রোতে দুর্ভোগ বাড়ছেই

বিডি নিউজ ৬৪: পদ্মায় পানি বাড়তে থাকায় তীব্র স্রোতে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছেই সাধারণ যাত্রীদের। গত তিন সপ্তাহ ধরে ঘাট এলাকায় লেগে রয়েছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন ও যানজট। পদ্মা পার হতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের।

এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে কাওড়াকান্দি ২নং ফেরিঘাট সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়া ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে এ ঘাট দিয়ে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে রোরো ফেরি ঘাটের গ্যাংওয়ে  (ফেরিতে গাড়ি উঠার পথ) ঘাট থেকে সরে যাওয়া গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। কাওড়াকান্দি থেকে ছেড়ে আসা রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন ও শাহ পরান ফেরিগুলো ঘাটে ভিড়তে না পেরে তিন ঘণ্টা পদ্মায় নোঙর করে রাখে। ফলে শিমুলিয়া রোরো ফেরি ঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তিন ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে ঘাটটি ঠিক হলে রাত আটটার দিকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিআইডব্লিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাট সূত্র জানায়, পদ্মায় পানি বাড়ার ফলে স্রোতের তীব্রতাও অনেক বেশি। ফলে ডাম্প ও কে-টাইপ মিলে ৬টি ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া সন্ধ্যার পর অন্যান্য ডাম্প ফেরিগুলোও বন্ধ রাখা হয়। মূল পদ্মায় স্রোত বেশি থাকায় এ ফেরিগুলো চলতে পারে না স্রোতের বিপরীতে। এছাড়া রোরো ও ভিআইপি ফেরিগুলোকে পদ্মা পার হতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় বেশি লাগে।

এদিকে, কাওড়াকান্দি লঞ্চ ঘাট সূত্র জানায়, পানি বেড়ে যাওয়ার পর লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে। এবং পদ্মায় তীব্র স্রোত ও উত্তাল থাকায় গুনেগুনে যাত্রী তোলা হয় লঞ্চে। তীব্র স্রোতের বিপরীতে পদ্মা পার হতে অতিরিক্ত দ্বিগুণ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে বেড়ে গেছে জ্বালানি খরচ। এবং সে তুলনায় যাত্রী কম হওয়ায় অনেকটা লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়।

গতকাল ফেরিতে পার হওয়া প্রথম আলোর সাবেক শিবচর প্রতিনিধি আয়শা সিদ্দিকা মুন্নী বলেন, ‘পদ্মায় প্রচণ্ড স্রোত থাকায় এমনিতেই ফেরি পার হতে সময় বেশি লাগে। তারপর শিমুলিয়া ঘাটে এসেও পন্টুনে সমস্যা থাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সময় পদ্মায় আটকে থাকতে হয়েছে। সবমিলিয়ে এই বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ নেমে এসেছে এ রুটের যাত্রীদের মধ্যে।’

বরিশাল থেকে আসা অপর এক যাত্রী বলেন, ‘প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে ঘাট ঠিক করতে। ফেরি থেকে গাড়ি নামার পথে ঘাট থেকে সরে যাওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া পদ্মায় প্রচণ্ড স্রোত ও ঢেউ থাকায় অনেক সময় লাগে পদ্মা পার হতে।’

বিআইডব্লিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ‘স্রোতের কারণেই ফেরি চলাচলে দ্বিগুণ সময় লাগায় কিছুটা দুর্ভোগ রয়েছে। তারপরও আমরা যথাযথভাবে পরিবহনগুলো পার করে যাচ্ছি। যাতে করে ঘাটে এসে কোন সমস্যায় পরতে না হয় পরিবহনগুলোকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *