বিডি নিউজ ৬৪: সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদ গিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ। ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলবেন সেইদিকে নজর ছিল সবার। বৈঠকে ভারতে সন্ত্রাস এবং তাতে পাকিস্তানের মদদের ইস্যু যে তোলা হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তার ভাষণে সন্ত্রাসবাদের ইস্যুতে বিঁধলেন পাকিস্তানকে, নাম না করেই।
এর আগের দিনই পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছিলেন, ‘কাশ্মীর সমস্যা বর্তমানে শুধু ভারতের বিষয় নয়। অগ্নিগর্ভ কাশ্মীরে বর্তমানে স্বাধীনতার ঢেউ উঠেছে।’
পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সম্মেলনে রাজনাথ সিং সাফ জানিয়ে দেন, ‘সন্ত্রাসবাদকে যেমন পৃথিবী থেকে বন্ধ করতে হবে, তেমনই, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও একইরকম ভাবে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘ভাল সন্ত্রাসবাদী, খারাপ সন্ত্রাসবাদী এই সব শ্রেণিভেদ চলে না। সন্ত্রাসীদের শহীদ বলে মহিমান্বিত করা বন্ধ করতে হবে।’ লক্ষ্য যে পাকিস্তান, তা বুঝতে কারও অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।
পাক মাধ্যম কার্যত ব্ল্যাক আউট করল ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণ। সরকারি মাধ্যম পিটিভি ছিল সম্প্রচারের দায়িত্বে। রাজনাথের ভাষণ তারা দেখায়নি। কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তার ভাষণের সময় উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়নি। যদিও জানা গেছে, রীতি মেনেই রাজনাথের ভাষণের সময় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা সরিয়ে দেয়া হয়। তবে তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বৈঠকের পরে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেননি রাজনাথ। যদিও ভোজে দেখা যায়নি পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলি খানকে। আসলে দিনটা কেমন যাবে তার স্পষ্ট সঙ্কেত ছিল শুরুতেই। ইসলামাবাদের অভিজাত হোটেল সেরেনায় চলছে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক।
বৃহস্পতিবার হোটেলের ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে অতিথি মন্ত্রীদের স্বাগত জানাচ্ছিলেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলি খান। হোটেলে ঢোকার সময় রাজনাথের সঙ্গে দেখা নিসারের। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভাল করে হাতও মেলাননি দু’জনে। নেহাতই দায়সারা করমর্দন। এর পরেই মুখ ঘুরিয়ে দুই মন্ত্রী দু’দিকে হেঁটে চলে যান। তখনই পাকিস্তানি নিরাপত্তারক্ষীদের বচসা বেধে যায় ভারতীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে। করমর্দনের ছবি তুলতে দেয়া হয়নি ভারতীয় চিত্রসাংবাদিকদের। পরে পাক বিদেশমন্ত্রকের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রসঙ্গত, বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর কারণেই রাজনাথের পাক সফরের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। রাজনাথ পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখতেই বুধবার নানা জায়গায় ভারত–বিরোধী বিক্ষোভ দেখায় পাক জনতা। বিক্ষোভে সামিল হয় মুম্বই সন্ত্রাসের চক্রী বলে অভিযুক্ত হাফিজ সইদও। নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দর থেকে রাজনাথকে হেলিকপ্টারে নিয়ে আসা হয় হোটেলে।
সার্ক বৈঠক শুরু হওয়ার আগে নিসার বলেছেন, ‘সার্ক সম্মেলনকে সফল করতে আমরা বদ্ধপরিকর। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পরিবেশ শান্ত করতে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের উন্নতি করতে যা যা করার সবই করা হবে।’
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন সার্ক বৈঠকে যোগ দিতে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। যাদের মধ্যে রাজনাথও ছিলেন।
যদিও সংবাদমাধ্যমকে জানান হয়েছে যে এটি নিছকই একটি সৌজন্য–সাক্ষাৎ। রাজনাথের সঙ্গে আলাদা করে কোনো বিশেষ আলোচনা হয়নি।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল