বিএনপির ক্ষতি করতেই রিজভীর পরোয়ানা

বিডি নিউজ ৬৪: বিএনপির ক্ষতি করতেই দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রুহুল কবির রিজভী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যিনি সাংবাদিকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত মানুষ। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। তবে যে মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে সেটির এফআইআর এ তার নাম ছিলো না। যেদিন চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে, সেদিনই সেখানে তার না অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা রিজভী নিজেও জানতেন না, জানতেন না তার আইনজীবীরাও। ফলে ওইদিন আদালতে হাজির হতে না পারায় রিজভীর বিরেুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘এ মামলাটি অতি দ্রুততার সাথে সিএমএম কোর্ট থেকে বিচারিক আদালতে ট্রান্সফার করা হয়, যেটা একটু অস্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে হয়। উদ্দেশ্যটা দেখে মনে হয়েছে, রিজভীকে হয়রানি করা কিংবা গ্রেপ্তার করার জন্যই এটা করা হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব দাবি করে বলেন, ‘এই ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো যেখানে এফআইআর-এ নাম থাকে না, কিন্তু চার্জশিটে নাম দিয়ে দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সাধারণত নেক্সট ডেট (পরবর্তী দিন) পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। এরপরেও আদালতে না গেলে তখন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। রিজভীর এই মামলায় সেটাও করা হয়নি।রিজভীর ইচ্ছা ছিল, তিনি ওয়ারেন্ট ইস্যুর পরবর্তী দিবসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন।’

‘আমরা সবাই আইন মেনে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছি। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নিয়মিত আদালতে যাচ্ছেন। সুতরাং উদ্দেশ্যটাই হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা।’- বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘রিজভী যেখানে অতীতের সমস্ত মামলায় জামিনে রয়েছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিয়মিত কোর্টে  হাজিরা দিচ্ছেন, সেখানে এই মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে অতিদ্রুতার সাথে  গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার কী প্রয়োজন দেখা দিল? কারণটা হলো এটাই যে, রিজভী আমাদের দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। সুতরাং তাকে যদি অন্তরীণ করা যায়, তাহলে বিএনপির আরেকটি ক্ষতি করা সম্ভব হবে। উদ্দেশ্যটাই হচ্ছে, বিরোধী দল বিএনপিকে কাজ করতে না দেয়া এবং সে লক্ষ্যেই তারা আজকে এ ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলায় রুহুল কবির রিজভীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।  একইসঙ্গে, আগামী ২৩ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *