যে কারণে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে ট্রাম্পের অসম লড়াই

বিডি নিউজ ৬৪: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের লড়াই বহুদিন ধরেই চলছে। সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও এ থেকে আলাদা নয়। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা প্রচণ্ড ব্যস্ত হয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে রাজনীতির ময়দানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, যা যেন মার্কিনিদের চোখে এক বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ভ্যানিটি ফেয়ার।
এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক পক্ষের দিকে মার্কিন জনগণের মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। কোনো রাজ্যে যখন হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে থাকছেন তখন অন্য রাজ্যে আবার ট্রাম্প এগিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগেই ক্লেভল্যান্ডে এগিয়ে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হিলারি ক্লিনটন অবশ্য পরবর্তীতে ফিলাডেলফিয়াতে ট্রাম্পের তুলনায় এগিয়ে যান। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকেই অন্য প্রার্থীর তুলনায় সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে না। এ চিত্র মার্কিন নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। নির্বাচনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে এটি।
নানা বিষয়ে অযাচিত মন্তব্য করে ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মার্কিন ইমিগ্রেশন পলিসি নিয়েও কথা বলছেন। এ পলিসি তিনি তার মতো করে সাজাতে চান। এ বিষয়গুলো মার্কিন ভোটারদের মাঝে তুমুল আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিনিরা অনেকেই ট্রাম্পের নীতিকে প্রচণ্ড বিরোধীতা করছেন। অনেকে আবার তার পক্ষেই রয়েছেন। ফলে পক্ষে-বিপক্ষে বেশ আলোচিত হতে সক্ষম হয়েছেন ট্রাম্প। এ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে ট্রাম্পই সবচেয়ে আলোচিত। হিলারি ক্লিনটন ট্রাম্পের মতো কোনো আলোড়ন তুলতে সক্ষম হননি। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক কনভেনশনটি ছিল অত্যন্ত পেশাদার। সেখানে হিলারি ক্লিনটন ও তার মেয়ে চেলসি ক্লিনটন আলোচিত হন।
কনভেনশন পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প যেসব আলোচনা সৃষ্টি করছেন তাতে দলটির অনেক নেতাই বিব্রত হয়েছেন। ক্লেভল্যান্ড কনভেনশনের সপ্তাহ কয়েক আগেও রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির মধ্যে একটা ধারনা গড়ে উঠতে শুরু করেছিলো, হতে পারে ট্রাম্পকে ঘিরেই রিপাবলিকানরা আবার একাট্টা হবে। আর সম্মিলিত শক্তি দিয়ে তারা হিলারি ক্লিনটনকে রুখে দিতেও পারবে। সে সময় মুসলিম ও ইমিগ্রেশনবিরোধী দেশপ্রেমিক মার্কিনিদের একত্রিত করার একটা আশা জাগিয়েছিলেন ট্রাম্প।
কিন্তু ক্লেভল্যান্ড কনভেনশনের পর ফিলাডেলফিয়ায় যে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশন হয়ে গেলো তাতে মার্কিনিদের অনেকেরই হিসাব-নিকাশই পাল্টে গেছে। ওই কনভেনশনে বক্তৃতা করেন একসময়ের নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। আর তিনি তাতে স্পষ্টই ঘোষণা দিয়ে দেন, আর যাই হোক ডনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি মোটেই চান না।
তবে মার্কিনিদের বিশাল সংখ্যক ভোটার এখনও ট্রাম্পকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্টের ভোটারদের ট্রাম্পকেই সমর্থনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য এখন পর্যন্ত মার্কিন ভোটারদের সম্পূর্ণ মতামত জানা যায়নি যে, তারা কাকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান। নির্বাচন পর্যন্ত সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *