বিডি নিউজ ৬৪: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিধবা মা মারা যাবার পর তার ৬ মেয়ের জীবনে নিকষ কালো আধাঁর নেমে এসেছে। সেই সাথে এই পরিবারের চার বোনের লেখাপড়া এখন বন্ধ হওয়ার পথে।
জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যায় পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়কের ফ্যাক্টরী পাড়া মোড়ে আরজিনা বেগম (৪৫) নামে এক বিধবা মহিলা ট্রাকচাঁপায় (ঢাকা মেট্রো ট ১১-২৮৪০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘাতক ট্রাকটি পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর অভিমুখে যাচ্ছিল। অন্যদিকে নিহত আরজিনা সড়ক অতিক্রম করে তার বাড়ি ফিরছিলেন।
আরজিনার স্বামীর নাম মৃত মোফাখখরুল ইসলাম। তার বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের রাজাবাসর মুন্সিপাড়া গ্রামে।
ওই গ্রামের মোশারফ হোসেন মুন্সি জানান, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল স্ত্রী ও তার ৬ কিশোরী কন্যা রেখে মারা যান মোফাখখারুল ইসলাম। মোফাখখারুল ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর বড় দুই মেয়ে মুক্তা পারভিন (২৩) ও মোহসিনা রিক্তা (২০) সংসারের হাল ধরেন। মুক্তা পারভিন নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। মহসিনা রিক্তা ষষ্ট শ্রেণি পাশ করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর এই দুই বোন ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরিতে যোগ দেন। অন্যদিকে তাদের মা আরজিনা বেগম ছোট চার মেয়েকে আগ্লে রাখেন। এদের মধ্যে মোমিনা খাতুন (১৬) এসএসসি পাশ করলেও অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। ৪র্থ জন মমতাজ জাহান (১৫) স্থানীয় রাজাবাসর হাই স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। ৫ম জন মনোয়ারা লিপি (১৪) একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। এদের সর্বকনিষ্ঠ বোন মুসরাত জাহান লিপি (৯) রাজাবাসর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।
তিনি আরো জানান, মায়ের মৃত্যুর পর বড় দুই বোন এখন ঢাকায় যাবেন, গার্মেন্টে চাকরি করবেন, নাকি ছোট চার বোনদেরকে আগলে রাখবেন সে দুর্ভাবনার পাশাপাশি অর্থাভাবে তাদের পুরো পরিবারে নিকষ কালো আঁধার নেমে এসেছে।
বড় বোন মুক্তা পারভিন ও মেজো বোন মোহসিনা রিক্তা আরও বলেন, তার বাবা ও মায়ের ইচ্ছে ছিল সবগুলো মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করাবেন। এখন তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য দুই বোনের অভিন্ন লক্ষ্য হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল