বিডি নিউজ ৬৪: জামালপুরে যমুনার পানি ২০ সেন্টিমিটার কমলেও ব্রহ্মপুত্রে ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বেড়েছে জেলার পাঁচ লক্ষাধিক পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ। সেই সঙ্গে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। এ ছাড়া আজ সোমবার পানিতে ডুবে নিহত আরো একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীতে বন্যার পানি আরো ২০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর, তুলশিরচর ও ইটাইল ইউনিয়নসমূহের বিস্তীর্ণ এলাকার নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনার পানি কিছু হ্রাস পেলেও জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে এবং জেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সরিষাবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জ রেলপথ দুটিতেই এখনো ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল আজ সোমবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে হেলাল উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত হেলাল উদ্দিন জামালপুর পৌরসভার মিয়া পাড়া এলাকার মকবর আলীর ছেলে। গত শনিবার বিকেলে তিনি জামালপুর পৌর ভবনের পেছনে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হাঁটতে গিয়ে নদের পানিতে নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে সদর থানার ওসি মো. নাছিমুল ইসলাম জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, বন্যাদুর্গতের মাঝে ৬০০ মেট্রিকটন চাল ও ছয় হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ৪৮টি মেডিক্যাল টিম ও ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করে ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বন্যায় দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় জামালপুর পৌরবাসীর সহায়তায় রুটি সরবরাহ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যার্তদের খাদ্য সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল