নীলফামারীর বিলুপ্ত ছিটবাসীর ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন

বিডি নিউজ ৬৪: নাম-পরিচয়হীন ৬৬ বছরের পর নতুন বাংলাদেশ যেন তাদের কাছে এক নবজন্মের ঠিকানা। নতুনভাবে নাম-পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে। তাইতো ১ আগস্ট প্রথম বর্ষপূর্তিতে তারা তাদের এই  মুুক্তিকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করেছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ৩১ নম্বর নগর জিগাবাড়ি বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা পারুল বেগম (২৭)। নতুন বাংলাদেশি হওয়ার পর উন্নয়ন প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে পারুল জানালেন তার উচ্ছ্বাসের কথা। জানতে চাইলে চটপট জবাব দিলেন, ‘মাত্র এক বছরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে, বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মী আসছে, খোঁজ-খবর নিচ্ছে। পাশে বিদ্যালয়ও হচ্ছে।’

শুধু পারুল নন, সরকারের সফলতার কথা জানালেন ফরিদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, রফিকুল ইসলামসহ অনেকে। তাদের কথা আমরা যা পাচ্ছি সেটা অব্যাহত থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সময় লাগবে না।

বছর ঘুরে ১ আগস্ট সোমবার বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনটি তারা স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করেছে। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বিজয় র‌্যালি করা হয় ছিটবাসীদের উদ্যোগে।

৩১ নম্বর নগর জিগাবাড়ির জয়নাল আবেদীনের বাড়ির উঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বিজয় র‌্যালি গ্রামের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

নগর জিগাবাড়ি ছিটবাসীদের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় ২৯নং ছিটমহলের মিজানুর রহমান, টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক বক্তব্য দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, যোগাযোগ্য ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যাটিটেশন, অবকাঠামো, ঋণ সুবিধা, আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মকাণ্ডসহ নানান কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের উন্নয়নে। সরকারের গৃহিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু কাজ চলমান অবস্থায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকিগুলো সম্পন্ন হবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়নের কাজ শেষ হলে বিলুপ্ত ছিটবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *