এভিডেন্স হাতে পেয়েও ধ্বংস কেন- প্রশ্ন মোশাররফের

বিডি নিউজ ৬৪: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন যাদেরকে আটক করা হয়েছে, তাদেরকে বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। অনেক এভিডেন্সগুলো হাতে পাওয়ার পরেও সরকার সেগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে কেন? এটা আজ আমাদের সকলের প্রশ্ন। সরকার কি তাহলে জঙ্গি দমনে আন্তরিক নয়? সেজন্যই কি তারা দোষারোপের রাজনীতিতে চলে গেছেন? সেজন্যই কি প্রকৃত জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে না?’

গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশের ডিপ্লোমেটিক জোন গুলশান-বারিধারা বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য। সন্ধ্যার পর গুলশানে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ।

‘সাপ্লিমেন্টারি ক্রেডিট কার্ড এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মামলার ক্ষেত্রে এর প্রভাব’-শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে ‘ব্যারিস্টারস অব চেইঞ্জ’ নামের একটি সংগঠন।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক স্পেস না থাকার কারণে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। তবে একবারে গুলশানের মতো ঘটনা ঘটেনি। এর আগে ব্লগার, বৌদ্ধভিক্ষু, মন্দিরের পুরোহিত, গির্জার ধর্মযাজককে হত্যা করা হয়েছে। একই ধরনের হত্যাকাণ্ড।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পরে সরকারের পক্ষ থেকে ব্লেইম গেম অর্থাৎ দোষারোপের রাজনীতি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওমুক ওমুক দল এসব ঘটনার পেছনে আছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা-জঙ্গিরা স্পেস পেয়ে গেছে। সংগঠিত হওয়া ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ তারা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার বলছেন, গুলশান হামলার প্রেক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না। অথচ বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। আমাদের দেশের ডিপ্লোমেটিক জোন গুলশান-বারিধারা আজ বিরানভূমি। সন্ধ্যার পরে সেখানে ভুতুড়ে বাড়ি হয়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য আজ সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ কাউন্সিল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে ইংলিশ মিডিয়াম প্রতিটা স্কুল। গার্মেন্টস সেক্টরও সঙ্কটের মুখে।’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এর মোকাবিলা করতে না পারলে জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। সেক্ষেত্রে  বাংলাদেশ একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সেজন্য দেশ-জাতি এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে দেশনেত্রী জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন আহুত জাতীয় ঐক্যের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের জন্য আমরা গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করছি। সেখানে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানানো হবে। তখন আওয়ামী লীগ বা আ.লীগ ঘরোনার কোনো দল না আসলেও জনগণের ঐক্য বাধাগ্রস্ত হবে না। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের ঐক্য সৃষ্টি হবেই, ইনশাল্লাহ।’

আওয়ামী লীগের নেতৃতাধীন বর্তমান সরকারকে ‘ওয়ান-ইলেভেনের মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের এক্সটেনশন’ বলে দাবি করে তিনি বলেন,  ‘ওয়ান-ইলেভেনের ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ একটু সংশোধিত করে এখন ‘মাইনাস-ওয়ান’ করার জন্য এই সরকার নানা ষড়যন্ত্র করছে। তারেক রহমানের মামলার রায় এই ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে বিএনপির বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন, এই দলকে দুর্বল-নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। কারণ, বিএনপি জনগণের ভালবাসায় সিক্ত, জনগণের দল।’

তারেককে সাজা দিয়ে সরকার আমাদের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চায়, এমন দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘এই রায়টির মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ হয়েছে। তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র উদঘাটিত হয়েছে। তবে তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে বিএনপিকে দুর্বল করা যাবে না।’

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে দাবি করে সে আন্দোলনে দেশবাসীকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান ড. খন্দকার মোশাররফ।

‘ব্যারিস্টারস অব চেইঞ্জ’র সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, জিয়া নাগরিক ফোরামের (জিনাফ) সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার, জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিক প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *