৬ সেকেন্ডের রিজ্যুমিতে কী থাকবে কী থাকবে না, জেনে নিন

বিডি নিউজ ৬৪: বহু গবেষণায় বলা হয়েছে, চাকরিদাতারা প্রার্থীর রিজ্যুমিতে মাত্র ছয় সেকেন্ড চোখ বুলিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এই সময়ের মধ্যেই তাঁরা ওই প্রার্থীর প্রতি আগ্রহী হবেন কি না তা বুঝে নেন।
সহজপাঠ্য হবে
চাকরিদাতারা মনে করেন, ইন্টারভিউ এগিয়ে যায় এক ঝলক রিজ্যুমিতে চোখ বোলানোর পর। ঘটনাটি ঘটে যায় ছয় সেকেন্ডের মধ্যে। এখানে রিজ্যুমির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো তাঁদের চোখের সামনে তুলে ধরার দক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে। ব্যাকরণগত ভুল না করে তথ্যগুলো সরল ভাষায় প্রদান করতে হবে। তথ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ক্রমানুসারে সাজাতে পারেন। প্রথম দিকেই এমন তথ্য দিতে হবে, আসলে যা খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। যেমন—যে পদে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন, এর সংশ্লিষ্ট কোনো অভিজ্ঞতা বা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে থাকলে তার জানান দিন। আর যাঁরা নতুন তাঁরা শিক্ষাজীবনে নানা অর্জনের কথা প্রকাশ করতে পারেন প্রথম দিকেই।
আকারটা গুরুত্বপূর্ণ
একটা সিভিতে কতগুলো পাতা থাকা দরকার? সাধারণ নিয়ম বলছে, যদি কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা পাঁচ বছরের কম হয় তবে একটা পাতাই যথেষ্ট। যদি আরো অনেক বেশি হয়, তবু কিন্তু দুই পাতাতেই সব সেরে ফেলতে হবে। নতুনদের একটি পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বাড়তি কিছু না দেওয়াই ভালো। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস’ সম্পর্কে লেখার প্রয়োজন নেই। যেকোনো কাজের অভিজ্ঞতা বা ইন্টার্নশিপের খবর প্রথম দিকে থাকা উত্তম। এরপর শিক্ষাক্ষেত্রে আপনার সর্বোচ্চ ডিগ্রির কথা উল্লেখ করতে হবে। পরিমিত ভাষায় প্রকাশ করুন। একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভের সব কর্ম অভিজ্ঞতার পরের অংশে শিক্ষাজীবন তুলে ধরতে হবে।
এক বর্ণে লিখুন
রিজ্যুমির পুরোটাই কালো অক্ষরে লিখুন। যদি সৃষ্টিশীল কোনো পদের জন্য আবেদন করেন, তবে বিষয়টা ভিন্ন। পদ বুঝে অনেকেই দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিকস ব্যবহার করতে পারেন। ঝকঝকে সাদা কাগজে কালো অক্ষরের সিভি সব সময়ই পছন্দের তালিকার শীর্ষে।
শখের বয়ান নয়
বাগান করা যে আপনার শখ তা জানতে চায় না প্রতিষ্ঠান। রিজ্যুমি বড় করতে এসব উপাদান যোগ করবেন না। শৌখিন মনের পরিচয় দেওয়ার স্থান সিভি নয়। যদিও চাকরির বিজ্ঞাপনে দেওয়া থাকতেই পারে যে তারা উন্নত ব্যক্তিত্বের প্রার্থী খুঁজছে। তবে এই উপায়ে এর জানান দিতে হবে বলে মনে করবেন না। আপনার ব্যক্তিত্বের বিষয়টি তারা ইন্টারভিউয়ের সময়ই বুঝে নেবে। কেউ জানতে চাইলে যেন শখের কথা সুন্দরভাবে বলতে পারেন এর প্রস্তুতি রাখুন।
সততা রাখুন
সব ধরনের তথ্য প্রকাশে সৎ থাকুন। অর্থাৎ এমন কিছু লিখবেন না যা কিনা সত্য নয়। ছোট বা বড় সব ধরনের মিথ্যা এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যারিয়ারে কোনো কারণে শূন্যতা থাকলেও তা ঢেকে রাখার চেষ্টা করবেন না। তবে আগের প্রতিষ্ঠান বা বস সম্পর্কে বাজে বকার মতো অসদাচরণ করতে নেই। এতে হিতে বিপরীতটাই ঘটে।
সংখ্যায় প্রকাশ করুন
সফলতাগুলো সম্ভব হলে সংখ্যায় প্রকাশ করুন। যেমন—কোনো পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন—তথ্যটা এভাবে প্রকাশ করে বলুন, ওই পরীক্ষায় ১০০ জনের মধ্যে আপনি পঞ্চম হয়েছেন। নিজের দক্ষতা প্রকাশে উদার থাকুন। বাড়তি বিশেষণ এড়িয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *