বিডি নিউজ ৬৪: তারেক রহমান নয়, বিএনপির প্রতিবাদ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য- এমন দাবি করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সকলকে রাস্তায় যেতে হবে। কারণ, আমাদের ঠিকানা রাস্তা। সুতরাং রাস্তায় থেকে দাবি আদায় করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন গয়েশ্বর।
‘ভোটারবিহীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক দায়েরকৃত মুদ্রাপাচার মামলায় জজ আদালতের দেয়া বেকসুর খালাসের রায় বাতিল করে’ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সেজন্য তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকে। কিন্তু তারপরও তারা তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়। সে লক্ষ্যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো আরেকটি আগ্নেয় নির্বাচন করতে চায় তারা।’
তারেক রহমানের মতো খালেদা জিয়ারও সাজা হওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে সরকার তারেক রহমানকে বাধা মনে করে। জনগণও বিশ্বাস করে, রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই তারেকের বিরুদ্ধে এ রায়। তবে শুধু তারেক নয়, যত বাধা আছে সব বাধা একের পর এক সরিয়ে ফেলতে চায় এ সরকার। সুতরাং কত নেতার যে সাজা হবে এই মুহূর্তে তা বলা যাবে না।’
সরকারের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘বিএনপির সাবেক এমপি-মন্ত্রী এবং মাঠে ক্রিয়াশীল নেতা যারা আগামীতে নির্বাচন করতে চান, তাদের তালিকা দেশের মানুষ জানে, সরকারও জানে। সেই সংখ্যা পাঁচশ, হাজার কিংবা দুই হাজার হতে পারে। এই দুই হাজার লোককে কারাবন্দি করে যদি নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চান, রাখতে পারেন। তারপরও বলব, জনগণের ভোট জনগণকে দিতে দেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনাদের জামানত থাকবে না।’
তিনি দাবি করে বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন, কিছু লোককে জেল দিলে সব সমস্যার সমাধান হবে, হবে না। কারণ, এটা কিছু লোকের সমস্যা নয়। কিছু লোকের সমস্যা হলে তাদের জেল দিয়ে সাময়িকভাবে ক্ষমতায় (সরকারকে ইঙ্গিত করে) টিকে থাকতে পারেন। কিন্তু এটা করে দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকা যাবে না। কিছু লোককে কিছুদিন বোকা বানানো যায়, কিন্তু সব লোককে বেশিদিন বোকা বানানো যায় না।’
সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব নগ্ন থেকে নগ্নতর হচ্ছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সরকারকে বলব, যাই কিছু করেন সেটা স্বচ্ছ, সত্য ও জনগণ যাতে বিশ্বাস করে- সেভাবেই করেন। কারণ, ভবিষ্যতে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবেন না, তখন না আবার কোনো ৩০২ ধারার মামলার আসামি হতে হয়। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করেন। যে খেলায় মেতেছেন সেটা খুব ভালো খেলা নয়।’
গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার দিকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে যা ঘটার তাই ঘটছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে, যেখানে গণতন্ত্র অনুপস্থিত সেখানেই গণতন্ত্রের বাইরের শক্তি নানাভাবে সংগঠিত হয়। তাই বলব, জঙ্গিবাদ যদি বিস্তার লাভ করে, তাহলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। আর জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন তো দূরের কথা, রাষ্ট্রের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শর্তহীনভাবে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দিচ্ছে না।’
সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জঙ্গি দমনে সবাইকে রাস্তায় নামতে দিন। গণতন্ত্রকে সংকুচিত না করে প্রশস্ত করুন। বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক স্পেস দেন। তাতে সবার লাভ। দেশবাসীও সেটাই চায়।’
বিএনপি চেয়রাপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন- কৃষক দলের সহ-সভাপতি এমএ তাহের, নাজিম উদ্দিন; যুগ্ম-সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল