মৌলভীবাজারে জঙ্গি দমনে বিশেষ নিরাপত্তা

বিডি নিউজ ৬৪: জেলায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে বিশেষ নিরাপত্তা ও বিশেষ গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা উপজেলাগুলোতে বিশেষভাবে এ নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সূত্র জানায়, পুলিশের পাশাপাশি, র‌্যাব, গোয়েন্দা কার্যক্রমে পারদর্শী, ডিএসবি কাজে অভিজ্ঞ ও মেধাবী অফিসারদের নিযুক্ত করে গোপনভাবে জঙ্গি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অফিসার বা ফোর্স বদলির ক্ষেত্রেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস ও মেসগুলোতে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি পাওয়া গেলে তাদের পরিচয় যাচাই বাছাই (পিসিপিআর) করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জামায়াতে ইসলামির নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠগুলোর ওপরও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রত্যেক রিকশাচালক, সিএনজি চালক, ভাড়াটিয়া, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক, প্রভাষক, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ডে বাসা বা বস্তির মালিক তাদের ভাড়াটিয়াদের আইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর, ছবিসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য, পৌর কাউন্সিলরের মাধ্যমে থানায় জমা দেয়ার জন্য। মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের মূল কাগজপত্র চালকের সঙ্গে রাখতে হবে।

স্থানীয় এলাকায় মোটরসাইকেলসহ যেকোনো গাড়িতে অপরিচিত লোকের গতিবিধি তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেয়ার জন্য। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মার্কেট, রেল স্টেশন, বাসস্টেশন, অলিগলিতে অযথা ঘোরাঘুরি এবং মূল্যবান সামগ্রি, মোবাইল, সামজিক গণমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না সে বিষয়ে অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, খেলাধুলায় মনোযোগী, তাদের সামাজিক অবক্ষয় রোধকল্পে সন্তানের গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য করতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেয়া হয়। অপ্রাপ্ত বা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতে মূল্যবান সামগ্রিসহ মোবাইল পাওয়া গেলে পুলিশ ওইসব জব্দ করে থানায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবন্ধকতা হয় এমন বিষয়গুলোতে সামাজিক প্রতিরোধের লক্ষ্যে এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার লোকদের এগিয়ে আসার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাড়ায় মহল্লায় মাইকিং করে গণসচেনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জেলার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে তাদের নিকটতম আত্মীয়দের সহায়তা পাওয়া না গেলে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য উদ্ধার ও সামাজিক গণমাধ্যমে তাদের ছবি দিয়ে তথ্য প্রচার করতে হবে। একই সঙ্গে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিতভাবে সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময়, ইতোপূর্বে জঙ্গি কার্যকলাপের কারণে যে সমস্ত মামলা রুজু হয়েছে তা নিবিড়ভাবে তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োজিত করা হবে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মতবিনিময় হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *