বিডি নিউজ ৬৪: রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হিলারী ক্লিনটনের ৩০ হাজার নিখোঁজ ইমেইলের সন্ধান বের করার ব্যাপারে রাশিয়াকে উৎসাহ দিয়েছেন।
রাশিয়ার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার ধারনা আপনারা ওইসব নিখোঁজ ইমেইলের সন্ধান বের করতে পারবেন। তার ফলে আপনারা মার্কিন গনমাধ্যমের দ্বারা পুরস্কৃত হবেন।’ ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের গল্ফ রিসোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে এসব মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর হিলারি ক্লিনটন ত্রিশ হাজার ই-মেইল তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেননি।
কয়েকদিন আগে ডেমোক্র্যাট দলীয় আরেক প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সংক্রান্ত কিছু ইমেইল ফাঁস হবার পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মন্তব্য করেছিলেন, এর পেছনে রাশিয়ার হাত থাকতে পারে। এরপরই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
ইতিমধ্যেই নিজের বক্তব্যের জন্য আলোচিত সমালোচিত ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ হালকা মেজাজেই ওই বক্তব্য রেখেছিলেন। কিন্তু এখন সেটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াইরত দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রধান বিতর্ক।
যদিও ওই বক্তব্যের পরই নিজের টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, যদি কেউ হারানো মেইলগুলো খুঁজে পায়, তাহলে সেগুলো এফবিআই এর কাছে তুলে দেয়া উচিত হবে। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। এখন অভিযোগ দাঁড়িয়েছে, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির ইমেইল হ্যাকিংএর জন্য রাশিয়া দায়ী এবং এতে উৎসাহ যুগিয়েছেন ট্রাম্প। তবে রাশিয়া এবং ট্রাম্প দুই পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ওই অভিযোগ সম্পর্কে ট্রাম্প বলছেন ‘এটি ছিল একটি দূর কল্পনা। এটা এতো হাস্যকর। কিন্তু রাশিয়ার আমাদের দেশের জন্য কোন সম্মান নেই। তারা এটা করতে পারে, কিংবা হয়তো চীন করেছে বা নিজের বিছানায় শুয়ে অন্য কেউ। কিন্তু এটা দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কত দুর্বল”।
তবে এখন রাশিয়া এই ইমেইল হ্যাকের সঙ্গে জড়িত ছিল এমন সম্ভাবনা বুধবার রাতে নাকচ করে দেন ট্রাম্প। কিন্তু এতেও সমালোচনা থেমে নেই। ডেমোক্রেটিকরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মত একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিদেশী শক্তিকে নিজের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নজরদারি করতে আহ্বান জানিয়েছে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল