ইউপি সদস্যের আক্রোশের শিকার কেরানীগঞ্জের সংবাদকর্মী

বিডি নিউজ ৬৪: কেরানীগঞ্জের এক জনপ্রতিনিধির বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সিরিজ রিপোর্ট’ লিখেছেন বশির হোসেন খান নামের এক সংবাদকর্মী। অথচ ক্ষিপ্ত সেই জনপ্রতিনিধির আক্রোশের শিকার হতে হলো বশির আহমেদ নামের আরেক সংবাদকর্মীকে। ওই জনপ্রতিনিধি তার ‘মাস্তান’ লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন বশির আহমেদের অসুস্থ বাবাকে। দিয়েছেন ধর্ষকের বদনামও। এমন দাবি বশির আহমেদ নামের ওই সংবাদকর্মীর। তিনি বলেছেন, কেবলই নামের মিল থাকার কারণে তিনি এই আক্রোশের শিকার হয়েছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাক্তার আরশীনগর এলাকার ইউপি সদস্য হানিফের বেপরোয়া আচরণ ও তার হাতে নির্যাতন-নিপীড়নের কথা তুলে ধরেন সংবাদকর্মী বশির আহমেদ ও তার পরিবারের লোকজন। তারা দাবি করেছেন, ওই মেম্বারের ভয়ে তাদের পুরো পরিবার এখন এলাকা ছাড়া। এখনো অব্যাহতভাবে হুমকী দেয়া হচ্ছে তাদের।

গত ১৪ জুন এবং ১৫ জুন দৈনিক আমার সংবাদ নামের একটি পত্রিকায় ‘কেরানীগঞ্জে গ্যাস সংযোগ মেলে হানিফ মেম্বারের কারিশমায়’ এবং ‘কেরানীগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্ক হানিফ মেম্বার’ শিরোনামে নামে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ দুটির রিপোর্টারের নাম বশির হোসেন খান। তাকে ওই সাংবাদিক মনে করে ইউপি সদস্য হানিফ মেম্বার তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। গত ১৭ জুলাই দুপুর পৌনে ২ টায় পরিকল্পিতভাবে চড়াও হয় বশিরের পরিবারের ওপর।

লিখিত বক্তব্যে বশির বলেন, ‘হানিফ মেম্বারের সহযোগী আমির মাদবরের নেতৃতে ওইদিন ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা চালায়। আমাকে না পেয়ে তারা আমার অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা আব্দুল রাজ্জাক (৮০), আমার বড় ভাই, বড় বোন এবং ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা করে। তারা এক পর্যায়ে বাড়িঘর ভাংচুর করে বাসায় তালা দিয়ে চলে যায়।’

বশির জানান, তারা দুটো কিশোরীকে তাদের বাসায় ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে পরিকল্পিতভাবে লোক জড়ো করে। তার বৃদ্ধ বাবাকে ধর্ষক প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে এবং বেদম প্রহার করে। এসময় ঘরের অন্যান্য লোকজন তাকে ঝাড়াতে আসেলে তাদেরকেও মারধর করে হানিফ মেম্বারের লোকজন।

বশির বলেন, ‘তারা মুলত আমাকে হত্যার উদ্দেশেই হামলা চালায়। আমি বাসায় না থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। এখনও তারা আমাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে।’

বশির আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমার পাশের আরও দুটি পরিবারের লোকজনকে মারধর করেন। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন লিটন, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এবং ওসি ফেরদৌস হোসেনকে ফোনে জানাই। আমার পরিবারকে বাঁচাতে বলি। এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে ডিউটি অফিসার বলেছেন, ‘ওসি স্যার ছাড়া কিছুই করা যাবে না।’ পরবর্তীতে ওসিকে ফোন করলে তিনি আমায় বলেছেন, ‘আমি খবর পেয়েছি, সেখানে রেপিস্টকে (ধর্ষককে) মেরেছে জনতা।’

তিনি জানান, পরবর্তীতে ঘটনা স্থলে গিয়ে থানার এসআই ইউসুফ, আশরাফুল, ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন লিটন, রিপন এবং মেম্বারের প্রভাবশালী মামাতো ভাই হাবিব তাকে ওই পরিবারের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বলেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তিনি জরিমানা দিতে সম্মত না হলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং এলাকা ছাড়া করা এবং উল্টো মামলা দেয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তারা তাকে এবং তার বাবাকে বেঞ্চের উপর উঠবস করে সবার কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

বশির বলেন, ‘রাত নামলেই মেম্বারের লোকজন আমার বাসার আশেপাশে অস্ত্রের মহড়া দেয়। আমাদের পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের গুম হত্যাসহ যে কোনো ধরনের মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

পরিবার নিয়ে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নিশ্চয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংবাদকর্মী বশির আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলেন পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার রিপোর্টার বশির হোসেন খান, জনতার নিউজ২৪ডটকম-এর নির্বাহী সম্পাদক সুমন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *