বিডি নিউজ ৬৪: কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের তাজ মঞ্জিলের (৫৩ নম্বর বাড়ি) পঞ্চম তলায় কী রহস্য অপেক্ষা করছে তা ঘুনাক্ষরেও জানতো না আশপাশের বাসিন্দারা। সোমবার দিবাগত রাতে ভবনটিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনাগোনা, শেষ রাতের দিকে গোলাগুলির শব্দ, সকালে পুলিশের অভিযান সবকিছু মিলিয়ে রহস্যের জাল ঘিরে রেখেছিল এলাকাবাসীদের।
আতঙ্কে গুটিশুটি সবাই। পাশাপাশি কৌতূহলী মন, জানতে চায় কী ঘটছে আসলে। টেলিভিশনের পর্দায় ইতিমধ্যেই সংবাদের বান। তারপরও যেন আশ মেটেনা, নিজ চোখে দেখার জন্য উদগ্রীব।
কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি যে এখানে, তাদের এত কাছাকাছি আস্তানা গেড়েছে ‘জঙ্গি’রা। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের অভিযান শেষ হওয়ার পর জানালা, বেলকনি থেকে উঁকি মারতে শুরু করে ৫৩ নম্বর বাড়িটির আশপাশের বাসিন্দারা।
সারাদিন ওই এলাকায় বিরাজ করেছে থমথমে পরিস্থিতি। বেলা ১০টা নাগাদ কিছু দোকানপাট খোলা দেখা গেলেও কল্যাণপুর এলাকার ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক দিন ছুটি কাটিয়েছে। কল্যাণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে হাতে লেখা একটি নোটিশ দেয়ালে শাটানো। নোটিশে লেখা- অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত ছুটি ঘোষিত হলো।
৫ নম্বর সড়কের শিশু কল্যাণ কেজি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইউরেকা ক্রিয়েটিভ কোচিং, ৩ নম্বর সড়কের দীন কেজি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, হলি ক্রিসেন্ট মডেল স্কুল, ইনডিপেন্ডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ ই’ হক কোচিং সেন্টারের কল্যাণপুর শাখার গেটে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
দীন কেজি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল বাহারুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, স্কুল বন্ধ রাখার জন্য পুলিশ নির্দেশ দিয়েছে। তবে ইনডিপেন্ডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সজল আহমেদ জানান, পুলিশের নির্দেশে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাল (বুধবার) স্কুল খুলবে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সংরক্ষিত ছুটি বেশ উপভোগ্যই ছিল ছোটদের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৫ নম্বর সড়কের আশপাশে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের ঘুরঘুর করতে দেখা গেছে। পুলিশ, র্যাব, অস্ত্রশস্ত্র, সংবাদকর্মী, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন সবকিছুর প্রতিই এদের আগ্রহ। কৌতূহলী মন নিয়ে ‘দ্য তাজ মঞ্জিলে’র ‘তামাশা’ দেখতে এসেছে এরা, কিছু বুঝে অথবা না বুঝেই।
কল্যাণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুস সামাদ এদেরই একজন। সে জানায়, ৫ নম্বর সড়ক দিয়ে সে তার কাকার বাসায় যেত। এখানে কী ঘটেছে জানতে চাইলে বলে, জানি না।
-তাহলে এখানে এসেছো কেন?
-সবাই এসেছে তাই।
-কী ঘটেছে সেটা জানা কি উচিত না?
-জ্বি, উচিৎ।
-তাহলে পুলিশকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো।
-আপনে করেন, আমার ভয় লাগে!
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল