বন্যায় ১৩ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত নীলফামারীতে

বিডি নিউজ ৬৪: গত ১৫দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পানিতে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী চার দফা বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তা ব্যরেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেও পানির তোড় সামলাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, চর খড়িবাড়ির জিরো পয়েন্টে তিস্তা নদী থেকে পৃথক একটি চ্যানেল তৈরি হয়ে তা চর খড়িবাড়ি, একতার বাজার, জিঞ্জিরপাড়া, পুর্ব খড়িবাড়ি, টাবুর চর ও মেহেরের চর, তিস্তা বাজার হয়ে লালমনিরহাট জেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের গাইড বাঁধ ঘেঁষে পুনরায় ব্যারেজের উজানে এসে মিলিত হয়েছে।

ওই পানিতে বন্দী হয়ে পড়েছে ছয়টি চরের প্রায় দুই হাজার পরিবার। ইতোমধ্যে তিস্তাগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত সাড়ে চারশ পরিবারের ঘরবাড়ি বসতভিটা। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।

বিধ্বস্ত হয়েছে চারটি সেতু, ৩০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক। হুমকির মুখে পড়েছে চর খদিবাড়ি বিজিবি ক্যাম্প ও দুইটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ওইসব চরের আবাদি কয়েক হাজার একর জমির আমন বীজতলা বানির পানিতে ডুবে থাকায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এবারে আমন আবাদ হবে না ওইসব জমিতে।

বাস্তহারা পরিবারগুলো ঠাঁই নিয়েছে ডালিয়া হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন বাঁধ ও উঁচু স্থানে। তারা ভুগছে চরম খাদ্য ও আবাসন সঙ্কটে। নিরাপদ পানির অভাবে অনেকেই পান করছে তিস্তা নদীর ঘোলা পানি।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন জানান, ডিমলা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও জলঢাকা উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে তিনশ ৮৮টি ঘড়বাড়ি ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ হাজার দুইশ ৪৬টি ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ১৪ হাজার দুইশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চারটি।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পাঁচশ প্যাকেট শুকনো খাবার, ত্রাণের চাল একশ তিন মেট্রিক টন, নগদ টাকা চার লাখ ৩৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আরও সাতশ ৭৬ বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণের জন্য ২৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ইঞ্জিনচালিত নৌকা কেনার জন্য চার লাখ টাকা ও উদ্ধার কাজের এক লাখ টাকা চেয়ে ত্রাণ অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *