জোয়ারে চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি ৬ ঘণ্টা বন্ধ

বিডি নিউজ ৬৪: চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিস জোয়ারের কারণে ৬ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত শুক্রবার (২২ জুলাই) শরীয়তপুর ফেরিঘাটে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন ধরে সেখানে জোয়ারের সময় রাস্তা প্রায় কোমরসমান তলিয়ে যায়। ভাটা না হওয়া পর্যন্ত কোনো গাড়িই ফেরি থেকে নামতে পারে না। গাড়ি নিয়ে ফেরিগুলো পন্টুনে বাধা থাকে।

এতে দু’পাড়েই যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে ফেরি সার্ভিসের শরীয়তপুর ঘাটে গাড়ির লাইন কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত ফেরি থাকলেও শুধুমাত্র জোয়ারের কারণে যানবাহনগুলো পার হতে পারছে না।

ভাটা এলেই শুধু ফেরি লোড-আনলোড করা হয়। আর ভাটার জন্য প্রতিবার কমপক্ষে ৩/৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীরা গাড়িসহ ফেরিতে বসে-বসে অপেক্ষা করে কখন ভাটা হবে। চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলো শরীয়তপুর ঘাটে পাশাপাশি বেঁধে রাখতে হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালকদের একজন জানান, জরুরি প্রয়োজনে তিনি চাঁদপুর থেকে শরীয়তপুর যাচ্ছিলেন। পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে তাকে প্রায় ৩ ঘণ্টা ঘাট এলাকায় থেকে কোনোমতে তা চালানোর উপযোগী করেন। পরে মেকানিকের কাছে গিয়ে মোটরসাইকেল ঠিক করে চলনসই করেন। তারপরও সঠিকভাবে মোটর সাইকেলটি চলাচলের উপযোগী করতে তার ৭/৮ হাজার টাকা লেগে যাবে।

প্রতিদিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় দু’বার জোয়ার-ভাটা হয়। এতে ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। এতে যাত্রীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা, চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিসের ম্যানেজার কে এম ইমরান জানান, জোয়ারের সময় শরীয়তপুর ঘাটে গাড়ি ওঠা-নামা বন্ধ থাকছে। ফলে বাধ্য হয়েই ওই সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যানবাহনের জট লেগে যায় ঘাটে। এছাড়া ফেরিগুলোও শরীয়তপুর ঘাটে গিয়ে পাশাপাশি রেখে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে।

এছাড়া অনেক গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে নামতে গিয়ে পানির মধ্যে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বিকল হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিরও সীমা থাকে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল নষ্ট হচ্ছে বেশি। গত শুক্রবার বিকেলে ২টি মোটরসাইকেল পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে তারা চরম সমস্যার মুখোমুখি হয়।

কিন্তু ঘাটে আসা গাড়ির চালক ও অন্যান্যরা ক্ষোভ ঝাড়লেন দু’কর্তৃপক্ষের ওপরই। তাদের দাবি ১০/১৫ ট্রাক ইট-সুরকি যদি পণ্টুনের র‌্যামের রাস্তায় দিয়ে দেয়া হতো তাহলে এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতো না মানুষজন। কিন্তু ‘দু’জনের রশি টানাটানিতে তাদের জীবন শেষ’ অবস্থা। ২০/৩০ ফুট রাস্তা নিচু হবার কারণে মানুষজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তারা দ্রুত এ অবস্থার অবসান চান।

তিনি জানান, ঘাট দেখভালের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের। দু’পাড়েই তাদের কর্মচারীরা রয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে আমাদের ৪টি ফেরি চলাচল করছে। ফলে যানবাহন পারাপারে কোনো অসুবিধা হবার কথা নয়। কিন্তু শরীয়তপুর ঘাটে জোয়ারের সময় গাড়ি নামতে অসুবিধা হবার কারণে কিছুটা কম হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক ও চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে সহসাই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা হওয়ায় অনেকে আশঙ্কা করছেন চলতি মাসে এ অঞ্চলেও বন্যা শুরু হতে পারে। তখন এ রাস্তায় ইট-সুরকি দেয়াও কষ্টকর হয়ে যাবে। আর বন্যা হলে এই ছোট গর্ত অনেক বড় হয়ে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাছাড়া ফেরি সার্ভিসের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ছোট কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ের আদেশের অপেক্ষাও হাস্যকর বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *