‘জঙ্গি হামলা করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করাই চক্রান্তকারীদের লক্ষ্য’

বিডি নিউজ ৬৪: স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহুর্তে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জঙ্গি হামলা করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করাই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু তাদের এ পরিকল্পনা সফল হবে না। আজ শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ এদেশের উন্নয়নকে থামাতে পারবে না। শুধু দেশের মানুষই নয় বিশ্বের অনেক বন্ধু দেশও এদেশকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছে। আমরা সেই সব দেশের সহায়তা নেব। কিন্তু কোন ভাবেই দেশের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন কোন পদক্ষেপ এই সরকার নেবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু সন্ত্রাসী ও দেশ বিরোধী বাদে দেশের সকল মানুষ এখন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের তেমন কোন ক্ষতি তারা করতে পারবে না। এই সরকারের জঙ্গিবাদ দমনে পুরো সামর্থ্য রয়েছে। গুলশানের ঘটনা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যৌথ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে ভারতে মুম্বাই শহরে এক সাথে ৩টি স্থানের জঙ্গি হামলা সে দেশের সেনাবাহিনীর ৭২ ঘণ্টা অপারেশন চালাতে হয়েছিল। এতো বড় একটি রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর যদি এ সময় লাগে, সেখানে বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর এই সময় তেমন বেশি নয়। যদিও অনেকে প্রশ্ন করেন, সাথে সাথে কেন অপারেশন করা হলো না। কিন্তু বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলেই ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সাথে সাথে অপারেশন করা হলে এই ১৩জনকেউ বাঁচানো সম্ভব হতো না।

এ ছাড়াও মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এক সময় এদেশে অস্ত্রের চোরাচালান করা হতো। যে কারণে শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারতও এ কারণে সমস্যার মধ্যে ছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশই শুধু নিরাপদে নয়, ভারতও নিরাপদ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভারত সন্ত্রাস দমন করার জন্য তাদের এই স্থান গুলোর জন্য অনেক অর্থ অপচয় করতে হতো। শেখ হাসিনা ভারতের অরক্ষিত স্থানগুলোকে ঝুকিমুক্ত করেছেন। যে কারণে ভারত উপকৃত হয়েছে বলেই আজ তারা বলছে যে কোন সমস্যার সাথে ভারত বাংলাদেশের সাথে রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ছিলো আছে ও থাকাবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ১৪দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাম্যবাদি দলের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পাটির (জেপি) কেন্ত্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না, তাড়াশ-রায়গঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মম আমজাদ হোসেন মিলন, জেলা পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমদ, জেলা জাসদের সভাপতি আব্দুল হাই তালুকদার, সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রউফ মুক্তা, উল্লাপাড়া পৌর মেয়র এসএম নজরুল ইসলাম, উল্লাপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান মারুফ বিন হাবিব, চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সুর্য্য, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ওসি আনিসুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *