বিডি নিউজ ৬৪: গোপালগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এনে আন্দোলনে নেমেছে দলিল লেখকরা। তার অপসারণের দাবি করে গত সোমবার মহাপরিচালক (নিবন্ধন)-এর কাছে গোপালগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির পক্ষে জেলা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বিগত ২৯ জুন থেকে এই অফিসের দলিল লেখকরা কোনো কাজকর্ম না করে অফিসের সামনে বেঞ্চ পেতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন। এই কারণে দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম। ফলে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হরাচ্ছে সরকার আর সেই সাথে ভোগান্তি পড়েছে ক্রেতা বিক্রেতারা।
জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হাজি আব্দুল মান্নান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক অজয় কৃষ্ণ দত্ত সূর্য, সদর উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আমিন খান, উপদেষ্টা সালাউদ্দিন খানসহ বেশ কয়েকজন দলিল লেখকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভিন গত ২ মে এই অফিসে যোগদান করেন। তিনি আসার পর অফিসটাকে একটা দুর্নীতির কারখানায় পরিণত করেছেন। সকালে দলিল জমা দিলে সেটা বিকাল ৫টা/৬টায় রেজিস্ট্রি করেন। বিভিন্ন নিয়মের কথা বলে কালক্ষেপণ করেন। পরে আবার খাসকামরায় গিয়ে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে দলিল করে দেন। এ ছাড়া তিনি আমাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করেন। গোপালগঞ্জে আগে এমন দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রার আসেনি। আমরা তার এ দুর্নীতির হাত থেকে রেহাই চাই এবং তার অপসারণ চাই। তারা আরো জানান এই সাব-রেজিস্ট্রারকে অন্যত্র বদলি করা না হওয়া পর্যন্ত দলিল লেখা বন্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, দলিল লেখকদের এ আন্দোলনের মাঝে সাব-রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভিন ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। এতদিন ধরে সদরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল রেজিস্ট্রি না হওয়ায় এখানে জমি ক্রেতা ও বিক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। দিনের পর দিন রেজিস্ট্রি অফিসে এসে জমি দলিল করতে না পেরে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জেলা সাব রেজিস্ট্রার দলিল লেখক সমিতির উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন খান বলেন, ২১ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস। সপ্তাহে তিন দিন এখানে দলিল হয়। সপ্তাহে প্রায় ২ শ থেকে আড়াই শ দলিল এখানে রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। আন্দোলন চলাতে এসব দলিল বন্ধ রয়েছে। ফলে সরকার কোটি টাকার ওপর রাজস্ব হারাচ্ছে। এর একটা সমাধান হওয়া উচিত।
সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের মোহরার মো. জাহিদুর রহমান বলেন, বর্তমান অফিসার জমি ক্রয় বিক্রয়ে সকল ধরনের নিয়ম কানুনমেনে চলেন, কাগজপত্র যাচাই বাছাই করতে একটু সময় লাগে। তবে দলিল লেখকদের আন্দোলনের কারণে এখন কোনো দলিল হচ্ছে না। এই সুযোগে স্যার বিনোদনের ছুটিতে আছেন।
অভিযুক্ত হেলেনা পারভিন কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, আমাদের প্রভিশন আছে জমির খাজনা রশিদ জমা নিয়ে দলিল করার। কিন্তু অধিকাংশ লোক খাজনা রশিদ সংযুক্ত করেন না। গোপালগঞ্জে এই নিয়মটা চালু করতে গিয়ে আমি বিপাকে পড়েছি। জমির সঠিক কাগজপত্র দেখে রেজিস্ট্রি করার বিধান রয়েছে আমি সেটি ফলো করি। তাই দলিল লেখকদের সমস্যা হচ্ছে। আর আমার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনোটিই সত্য নয়।
এ ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রার মো. আনোয়ারুল হক চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক নেতাদের নিয়ে দুই-তিনবার মিটিং করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারকে সপ্তাহে ২ দিন সদর অফিসে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সদর সাব-রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভিনের বিষয়ে তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে মহাপরিচালক বরাবরে একটি স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। সেটি আমি ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি। যে ভাবে নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল