রসুন খাওয়ার পর তার গন্ধ মিললো মায়ের বুকের দুধে

বিডি নিউজ ৬৪: রসুন খেয়েছিলেন এক নারী। এরপর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষায় দেখেন, তার বুকের দুধে রসুনের গন্ধ মিশে রয়েছে। এটি অ্যালিল মিথাইল সালফাইড (এএমএস)-এর কারণে ঘটে। এটা এক ধরনের মেটাবোলাইট। মা যখন তার শিশুকে নিবিষ্ট মনে বুকের দুধ খাওয়ান তখন এএমএস উৎপন্ন হয়।

জার্মানির ফ্রেডরিক-আলেক্সান্দার-ইউনিভার্সিট্যাট এরলানগেন-নার্নবার্গ (এফএইউ)-এর বিশেষজ্ঞ আন্দ্রিয়া বাটনার জানান, মা যে খাবার খান তা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে তার সম্পর্কে খুব কম জানি আমরা। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মা যে খাবার খান তা বেশ পছন্দ করে শিশুরা। মা যা খান তার দুধের স্বাদও সে রকম বা অনেকটা সে রকমই হয়।

আবার কিছু গন্ধ খুব বেশি সময় থাকে না। এগুলো বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। আগের কয়েকটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে, মাছের তেল বা চা খেলে বুকের দুধের গন্ধে কোনো পরিবর্তন আসে না।

অনেক সময় শীতের মৌসুমে মায়েরা ইউক্যালিপটাসের ক্যাপসুল খেয়ে থাকেন। তখন তাদের দুধে ইউক্যালিপটাসের গন্ধ পাওয়া যায়।

এক পরীক্ষায় কয়েকজন মাকে স্তন্যদানের আড়াই ঘণ্টা আগে কাঁচা রসুন খাওয়ানো হয়। দুধের নমুনা সংগ্রহ করে ঘ্রাণ পরীক্ষা করা হয়। এতে রসুন ও বাঁধাকপির মতো গন্ধ পাওয়া যায়। গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে এই গন্ধ উপাদান থেকে আলাদা করা হয়। যে মেটাবোলাইট পাওয়া যায় তা রসুন থেকেই তৈরি হয়েছে। এগুলো হলো অ্যালিল মিথাইল সালফাইড (এএমএস), অ্যালিল সালফোক্সাইড (এএমএসও) এবং অ্যালিল মিথাইল সালফোন (এএমএসও২)।

ঘ্রাণ পরীক্ষার পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখা যায় এএমএস-এর কারণে রসুনের মতো গন্ধ উৎপন্ন হয়েছে।

বাটনার জানান, যে গন্ধ পাওয়া যায় তা খাবারের মূল উৎস থেকে ভিন্ন হয়। কোন খাবার থেকে কি ধরনের উপাদান বুকের দুধে মেশে এবং তার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা কি তার সম্পর্কে খুব কম জানি আমরা। এসব গন্ধ শিশুর বেড়ে ওঠায় ভূমিকা রাখে।

তবে বুকের দুধে গন্ধ মেশার বিষয়টিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে মায়ের দেহের গন্ধ বা খাবার তৈরি বা অন্যান্য উৎসের গন্ধও বেশ প্রভাব বিস্তার করে, জানান বাটনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *