তারেকের রায়ে দেশবাসী স্তম্ভিত

বিডি নিউজ ৬৪: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রায়ে দেশবাসী ক্ষুব্ধ, বিস্মিত ও স্তম্ভিত বলে মন্তব্য করেছেন ২০ দলীয় জোট শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান।

তিনি বলেছেন, ‘খালাসের রায়কে সাজায় পরিণত করতেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই রায় এসেছে। তবে আদালতের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ছায়ার নেপথ্যে দখলদার-জালিমশাহীর নীতিই হচ্ছে দেশকে নেতা, সেনা ও মেধাশূন্য বিকলাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত করা।’

মুদ্রা পাচার মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দেয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন প্রধান।

বৃহস্পতিবার সকালে হাইকোর্ট মুদ্রা পাচার মামলায় নিম্ন আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেয়।

সেই সঙ্গে তারেকের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাত বছরের কারাদণ্ডও বহাল রাখে। তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড কমিয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

মামুনের আপিল খারিজ এবং দুদকের আপিল মঞ্জুর করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এ মামলার রায়ে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেককে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। আর গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে দেওয়া হয়েছিল সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ কোটি টাকা জরিমানা।

বিবৃতিতে জাগপা সভাপতি বলেন, ‘দেশকে নেতা, সেনা ও মেধাশূন্য বিকলাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত করার অশুভ লক্ষ্য অর্জনে দিল্লীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে গদিতে বসানো হয়। তারপরের ইতিহাস দিল্লীর ফর্মুলায় দেশকে পালাক্রমে নেতা-সেনা ও মেধাশূন্য করার করুণ ইতিহাস। পিলখানায় নির্মম সেনা হত্যাযজ্ঞ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অগণিত নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের, দেশপ্রেমিক নেতাদের ফাঁসিতে ঝোলানো এ চক্রান্তেরই ধারাবাহিকতা।’

‘দেশবাসী ক্ষুব্ধ, বিস্মিত ও স্তম্ভিত হলেও তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমানের এ সাজাকে খণ্ডিতভাবে দেখার সুযোগ নাই। সময় এসেছে, সাহসের সাথে সত্যকে দিনের আলোকে উদ্ভাসিত করার। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে প্রকাশ্যে নিলামে ওঠানো হয়েছে। নাম উচ্চারণ না করলেও দেশবাসী জানেন, জাতির দুশমন কারা?’ বলেন তিনি।

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে শফিউল আলম প্রধান বলেন, ‘কালক্ষেপণ না করে সকল দেশপ্রেমিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হোন। আধিপত্যবাদ ও দখলদার জালিমশাহীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, জাতীয় মুক্তির সাথেই তারেক রহমান ও সবার ভাগ্য জড়িত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *