যোগ্য নেতৃত্বে বেসিসের আগামীর পথচলা

বিডি নিউজ ৬৪: বেসিসে যোগ্য নেতৃত্ব এসেছে। মোস্তাফা জাব্বার আইসিটি সম্পর্কে আমার চেয়ে ভালো জানেন। তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী সবসময় এই সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সঠিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। সরকারের ‘ভিষন ২০২০’ বাস্তবায়নে বেসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০১৬-২০১৯) এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন।মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিবি) এর গুলনকশা মিলনায়নে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভালো অর্জন করেছি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬ কোটির বেশি। আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হচ্ছে। আমাদের সেই অগ্রযাত্রাকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর এক্ষেত্রে বেসিস বড় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং আগামীতেও সেই প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে সেটির প্রসারে সহায়তা করে এসেছি। আগামীতেও পাশে থাকবো। অবশ্যই বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত একদিন গার্মেন্টস খাতের মতোই বড় খাত হয়ে উঠবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বর্তমান সরকার দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের এই খাতের রফতানি আয় ২৬ মিলিয়ন থেকে এখন ৪০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বেসিসের বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান তার মেয়াদ কালের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মেয়াদকালে আমরা সদস্যদের মানোন্নয়ন, তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি, পলিসি তৈরি, পরিবর্তন, পরিবর্ধনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছি।

বেসিসের নবনির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৯ সালে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেয়। তখন এ খাতে বাজেট ছিল ১০০ কোটি টাকা। যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬শ কোটি টাকায়। কাজেই তথ্যপ্রযুক্তি খাত অনেক এগিয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের বাজার আমাদের নেই। বিদেশের পণ্য আমাদের বাজার দখল করে রেখেছে। আমাদের সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেসিসের বিদায়ী ও নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, বিদায়ী মহাসচিব ও নবনির্বাচিত পরিচালক উত্তম কুমার পাল, বিদায়ী যুগ্ম মহাসচিব ও নবনির্বাচিত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ শাহ ইমরাউশ কায়ীশ, বিদায়ী পরিচালক সানি মো. আশরাফ খান, সামিরা জুবেরী হিমিকা, নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান, নবনির্বাচিত পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবিরসহ বেসিসের সাবেক কার্যনির্বাহী পরিষদ, বেসিস সদস্য কোম্পানি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। বিদায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদ, বেসিস নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডকে তাদের অবদানের জন্য শুভেচ্ছা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। এরপর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদকে শপথ পাঠ করান বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নির্বাচন অপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ তৌহিদ।

তারপর বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান নবনির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের হাতে বেসিসের পতাকা ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন তুলে দেন। একইসাথে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদকে বরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে বেসিসের সকল সাবেক সভাপতিবৃন্দকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *