‘স্বচালিত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ মানুষের হয়তো নেই’

বিডি নিউজ ৬৪: স্বচালিত গাড়ি নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। আগামীতে এই চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছেন প্রযুক্তিবিদরা। তবে এ বিষয়ে সাবধান করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানান, স্বচালিত গাড়ি নির্মাতারা মনে করেন যে, কখনো এসব গাড়ি নিজস্ব পদ্ধতিতে চলতে ব্যর্থ হলে মানুষ তার নিয়্ন্ত্রণ নিতে পারবে। আসলে এমনটা ঘটবে না।

বরং উল্টোটা ঘটতে থাকবে। এমন কৌশলে গাড়ি বানালে তা অসংখ্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই মে মাসে টেসলা দুর্ঘটনা যেমনটা হয়েছিল।

বহু বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, এমন কোনো সিস্টেম যা সহজে বিগড়ে যায় না, তার ওপর নজর রাখার মতো কাজ মানুষের মাঝে একঘেয়েমিতা এনে দেয়। মানব মস্তিষ্ক ক্রমাগত ক্রিয়াশীল থাকতে চায়। মস্তিষ্ক কোনো কাজে ব্যস্ত না থাকলে পরবর্তিতে আকর্ষণীয় কিছু দেখতে না পারার পর্যন্ত ভাবতে থাকে।

স্বচালিত গাড়ি নির্মাতারা যত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিই গ্রহণ করুক না কেন বা স্বচালিত গাড়ি যত নিরাপদেই চলুক না কেন, মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যবস্থা তাতে রাখতেই হবে।

টেসলা দুর্ঘটনার সময় চারপামের অবস্থা দেখে অবশ্যই চালক কিছু না কিছু করতেন। কিন্তু তাকে নির্ভর করতে হয় গাড়ির বুদ্ধির ওপর। গাড়িটি বিপদ দেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক করতে পারলেও অবস্থা বুঝে একমাত্র মানুষই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ওহিওর এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক জোশুয়া ব্রাউন স্বচালিত গাড়ির ভক্ত বনে যান। তিনি চড়েছিলেন টেসলা মডেল এস সিডানে। গেইনভাইলের হাইওয়েতে একটি ট্রাক বামে ঘোরার সময় তার গাড়ির অটোপাইলট ব্রেক কষে ঠিকই। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটে এবং তার মৃত্যু হয়।

কিন্তু টেসলা সব সময়ই বলে, অটোপাইলটে গাড়ি থাকলেও চালককে সাবধান থাকতে হবে। তাকে স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ যখন-তখন নিতে হতে পারে। সেখানেই ভুল করেছিলেন ব্রাউন। ধরে নেওয়া যায়, হয় ব্রাউন ট্রাকটি দেখতে পাননি কিংবা একটু দেরি করে বুঝতে পেরেছিলেন ব্রেক কষতে হবে। এসব কথা বলেন ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান অ্যান্ড অ্যানাটমি ল্যাবরোটরির পরিচালক মিসি কুমিংস। ট্রাকচালক জানান, দুর্ঘটনার পর তিনি টেসলার ভেতর থেকে হ্যারিপটার সিনেমার আওয়াজ পাচ্ছিলেন।

কুমিংসের মতে, মানুষ স্বচালিত গাড়ি চেপে নিরাপদ বোধ করে। যদি মনে করেন যে অন্যকিছুতে মনোযোগ দিতে পারবেন, তবে এমন দুর্ঘটনা ঘটবেই। অটোপাইলটে দিয়ে গাড়ি বা বিমানের পাইলট চারপাশের পরিবেশের ওপর মনোযোগ হারাতেই পারেন।

এখানে সমস্যা হলো, এই প্রযুক্তির ওপর মাত্রাতিরিক্তি আত্মবিশ্বাস রাখা। টেসলা অটোপাইলটের ব্যবস্থা করার পর ভেতরে মানুষ মুভি দেখা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিশ্চিন্তে।

আবার গাড়ির মধ্যে বসে বসে এই অটোপাইলট সিস্টেমের ওপর নজরদারি করা আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তখন মস্তিষ্ক অন্য কিছু করতে উৎসাহী হয়ে উঠবে।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে কম্পানির কর্মকর্তারা জানান, তারা এমন কোনো পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেনে যাতে করে অটোপাইলটে থেকেও চালকরা মনোযোগ দিতে পারেন। এই পদ্ধতির নাম ‘সুপার ক্রুজার’। এর মাধ্যমে ক্যামেরা এবং রাডার একটি গাড়িকে তার সঠিক ও নিরাপদ অবস্থানে ধরে রাখবে। এর চারপাশের বাধাগুলো চিহ্নিত করবে। গোটা পদ্ধতি তাৎক্ষণিকভাবে ব্রেক করতে সক্ষম হবে। ঘন ট্রাফিকেও একটু থামা বা আবার সামনে এগোনোর প্রক্রিয়া আরো নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *