জঙ্গি সন্দেহভাজন নিখোঁজ তরুণী হঠাৎ থানায়

বিডি নিউজ ৬৪: বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ থাকার কারণে পুলিশ সন্দেহভাজন জঙ্গির তালিকায় ফেলেছিল মুন্সিগঞ্জের কলেজছাত্রী নুরুন্নাহার ইরাকে। পত্র-পত্রিকা, সোস্যাল মিডিয়াসহ ও অন্যান্য গণমাধ্যমে এ খবর জানার পর ওই ছাত্রী নিজেই এসে হাজির হয়েছেন থানায়। দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ভালবেসে গোপনে বিয়ে করে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন।

মঙ্গগলবার  মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানায় হাজির হয়ে ইরা জানান, বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে গুলশানের নর্দা এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি দাবি করেন কোনো ধরনের জঙ্গি সম্পৃক্তা নেই তার। এমনকি তার স্বামীও সম্পৃক্ত নন এসবে।

তিনি বলেন, ‘যা রটানো হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যে। আমি সবার অজান্তে বিয়ে করে ফেলি। মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে গত ১৯ জুন বাড়ি ছেড়ে চলে যাই।’

বাংলাদেশে সম্প্রতি নিখোঁজ থাকা কয়েকজনের জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর ‘নিখোঁজ’ ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মুন্সিগঞ্জে নিখোঁজ এই কলেজ ছাত্রীকে ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি’ হিসেবে তুলে ধরে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। এমনকি নিখোঁজ ছাত্রীটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে তার মায়ের বক্তব্যের উদ্ধৃতিও দেয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় থানায় হাজির হয়ে পর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান ইরা।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, থানায় আত্মসমর্পন করে তরুণীটি নিজের নাম নুরুন্নাহার ইরা বলে জানিয়েছেন। গত ১৯ জুন তিনি একটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে ঢাকায় চলে যায় এবং ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। তবে তারা বিয়ে করেছিল আরও আগে, ফেব্রুয়ারিতে। ইরা ইন্টারমিডিয়েট পড়ছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত ১০ই জুলাই মেয়েটির মা মোসাম্মৎ শামিমা থানায় এসে তার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ায় অভিযোগ জানান। কিন্তু এরপর বেসরকারি একটি টেলিভিশনে নুরুন্নাহার ইরার নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করে তাকে সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, ‘তরুণীটির মা তার মেয়ের নিখোঁজের খবর জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পর আমরা খোঁজ-খবর শুরু করি। এর মাঝে তিনদিন আগে আমরা শুনলাম সংবাদপত্র এবং এনটিভির সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করেন। আমরা কিছু জানিনা। তারা আমাদের কাছে কোনো কিছু জানতে চাননি। শুনলাম এনিটিভিতে একটি ডকুমেন্টারি প্রচারিত হচ্ছে। সেটা দেখলাম। পরে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে তরুণীটর বাবা-মাই একটি ছেলের খোঁজ দেন। সেই ছেলেটির কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ করলে তরুণীটি পরে নিজেই থানায় এসে জানায় যে, বাবা-মার অমতে বিয়ে করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার জন্য যেন কাউকে হয়রানি করা না হয়।’

তার বাবা একজন কৃষিজীবী এবং মা গৃহিণী বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মুন্সিগঞ্জে থানা হেফাজতে থাকা নুরুন্নাহার ইরা বলেন, ‘আমার স্বামীর অফিসে যখন যোগাযোগ করা হয় তখনই আমি বিষয়টি জানতে পারি। আমার তার মায়ের যে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে সেটা ফেসবুকের মাধ্যমে দেখেছি।’

আগে কখনো কোনও সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন কি-না প্রশ্নের জবাবে ইরা বলেন, ‘না, কখনই আমি কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমি একজন স্টুডেন্ট।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *