বিডি নিউজ ৬৪: জেলার সদর উপজেলার গড়াইটুপি গ্রামে চলা গ্রামীণ মেলার যাত্রা প্যান্ডেল কাছাকাছি থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়াইটুপি মেলায় তল্লাশি চালিয়ে এ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন-সদর উপজেলার তীতুদহ গ্রামের গাজীরুদ্দিনের ছেলে জসিম এবং একই গ্রামের আব্দুল গাজীর ছেলে কেরামত আলী।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান জানান, মেলায় নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে, গোয়েন্দা বিভাগের এ ধরনের তথ্য আগের থেকেই পুলিশের কাছে ছিল। সে অনুযায়ি চালানো হয় তল্লাশি। যাত্রা প্যান্ডেলের ভেতর থেকে আটক করা হয় জসিম ও কেরামত আলীকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫টি রামদা ও একটি চায়নিজ কুড়াল। আটককৃতদের চুয়াডাঙ্গায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত গড়াইটুপি মেলা এ বছর আয়োজনে পুলিশ প্রশাসন প্রথম থেকেই আপত্তি তুলেছিল। পুলিশের দাবি মেলা শুরু হলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে অথবা নাশকতা হতে পারে। বাধা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন ১০ দিনব্যাপী মেলা আয়োজনের অনুমতি দেয়। পুলিশ প্রশাসনের ছাড়পত্র ছাড়াই গত ১৫ জুলাই গড়াইটুপি মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস।
মেলা চালানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক খাইরুল ইসলামের আদালতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস ও সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে বিতর্কিত গড়াইটুপির মেলার আয়োজক শুকুর আলীর বিরুদ্ধে মেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর ওসি-১১২/১৬) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফি।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিজ্ঞ বিচারক এ মামলার সমন জারির নির্দেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মেলা চলাকালে খোদ যাত্রা প্যান্ডেলের অভ্যন্তরে পাঁচটি রামদা আর একটি চায়নিজ কুড়াল নিয়ে কয়েকজনের প্রবেশ করে। অবশেষে পুলিশের হাতে ২ জন আটকের ঘটনায় সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত। তারা বলছেন, পুলিশ এসব অস্ত্র উদ্ধার না করতে পারলে গতরাতেই মেলা প্রাঙ্গণে নৃশংস ঘটনার আশঙ্কা ছিল। জেলা পুলিশের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করে মেলা আয়োজনের পক্ষ নেয়ায় প্রশাসনকে দুষছেন তারা।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল