জঙ্গিবাদের অভিযোগ আড়াল করতেই খালেদার ঐক্যের ডাক

বিডি নিউজ ৬৪: জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ লালনের অভিযোগ আড়াল করতেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহামুদ।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে দেশবাসীর করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিদের সাথে নিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ বলেই রাজনৈতিক দল হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাতে এবং তাদের শরীরে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ লালনের যে অভিযোগ, সেগুলোকে আড়াল করতেই তিনি (খালেদা জিয়া) জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।’

খালেদার বিরুদ্ধে জঙ্গি-মদদের অভিযোগ এনে হাছান বলেন, ‘সম্প্রতি জঙ্গিবাদের বিভিন্ন ঘটনা তদন্তে উঠে এসেছে, এগুলোর সাথে ইসলামী ছাত্র শিবির জড়িত। জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ সৃষ্টিকারী ও ট্রেইনার ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতারা। আর ইসলামী ছাত্র শিবির বেগম খালেদা জিয়ার আঁচলের নিচে আশ্রয়ে আছে। বেগম জিয়া তাদেরকে নিয়েই সংসার করছেন।’

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি জঙ্গিবাদ নির্মূলে আন্তরিক হন তা হলে আপনার পাশে বসে থাকা সাত খুনের আসামি (শফিউল আলম প্রধান), জামায়াত; যার দেশটা চায়নি, তাদেরকে বাদ দিয়ে ঐক্যের কথা বলুন।’

চলমান হামলার ঘটনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের আনুগত্য না থাকায় বর্তমান সরকারকে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন ঘটেছে খালেদা জিয়ার ৯২ দিন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, সাঈদীকে চাঁদে পাঠানোর নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যায়। এর পর তা বিদেশি, হিন্দু-বৌদ্ধ মন্দিরের পুরোহিতের মধ্য দিয়ে। সর্বশেষ গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলাও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। সবগুলো ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী যে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেটার প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। যারা সরকারকে ঘায়েল করতে চায়, দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা সুকৌশলে এগুলো করাচ্ছে।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলব, যারা জঙ্গিদের গুরু, জঙ্গিদের অর্থের যোগানদাতা তাদেরকেও গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক। সেই সাথে যে সব শিক্ষক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পথভ্রষ্ট করছে, জঙ্গিপথে পরিচালনা করছে, তাদেরকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।’

সংগঠনের উপদেষ্টা হাসিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মোমেন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *