বিডি নিউজ ৬৪: এবারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ২৬ থেকে ২৯ জুলাই। ৪ দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে। প্রতিবছর এ সম্মেলন ৩ দিনে সম্পন্ন হলেও এবার জাতীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় একদিন বাড়িয়ে ৪ দিন করা হয়েছে।
সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য জাতীয় এজেন্ডার পাশাপাশি জঙ্গিবাদ দমন সম্পর্কিত আলোচনা প্রাধান্য পেতে পারে এবারের ডিসি সম্মেলনে। সারা দেশে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা, কৌশল ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশনাও আসতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, আসন্ন সম্মেলনের ব্যাপারে আগামী ২৪ জুলাই রোববার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রতিবারের মতো এবারও ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে অনুষ্ঠিতব্য ডিসি সম্মেলনে সর্বমোট মোট ২২টি অধিবেশন অনুষ্টিত হবে বলে জানিয়েছে সচিবালয়সূত্র। এর মধ্যে ১৮টি কার্য অধিবেশন থাকবে। বাকী চারটির মধ্যে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা একটি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং অন্যটি সমাপনী অধিবেশন।
কার্য অধিবেশনের মধ্যে প্রথম দিন ৫টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দিন ৮টি, তৃতীয় দিন ২টি এবং শেষ দিনে ৩টি অধিবেশন রয়েছে।
সম্প্রতি গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্ট ও শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকদের সর্বোতভাবে কাজে লাগাতে চায় সরকার। কেননা মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশসকদেরই সবচেয়ে বেশি ভূমিকার রাখার সুযোগ রয়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জেলা প্রশসকদেরও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে জেলা প্রশাসকরা অধিবেশনের বিভিন্ন সেশনে এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন-এমন ধারণাও করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিভাগের এক জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জঙ্গি দমনে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। মাঠ পর্যায়ে নানা সমস্যা মোকাবিলা করে এবং নানা ঝুঁকের মধেই কাজ করতে হয়। তাই জঙ্গি দমনের ইস্যুতে সুযোগ পেলে আসন্ন ডিসি সম্মেলনে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরবো।’
আগামী ২৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অধিবেশন চলবে সোয়া ১১টা পর্যন্ত। এরপর ১৫ মিনিটের চা বিরতির পর সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন বিষয়ে মুক্ত আলোচনা হবে। সবশেষে টাইগারস গেটে অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিদের ফটো সেশন।
একই দিন আরো ৫টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। কার্য অধিবেশনে যেসব মন্ত্রণালয় ও কার্যালয় সংশ্লিষ্ট আলোচনা হবে সেগুলো হলো- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা ও প্রাথমিক, গণপূর্ত ও ডাক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
দ্বিতীয় দিন ৮টা ৪৫মিনিটে অধিবেশন শুরু হবে। প্রথমে ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এরপর পররাষ্ট্র ও ভূমি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান, শিল্প ও বাণিজ্য, দুর্যোগ ও খাদ্য এবং বিদ্যুৎ, কৃষি ও পানি, এলডিআরডি এবং পার্বত্য, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ, স্বাস্থ্য ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা প্রশাকদের সাক্ষাতের সেশন রয়েছে।
তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় কার্য অধিবেশন শুরু হবে। এ দিনমাত্র ২টি অধিবেশন হবে। প্রথমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং শেষে বিমান এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়।
চতুর্থ দিন শুক্রবার সকাল ৮ টা ৪৫মিনিটে কার্য অধিবেশন শুরু হবে। প্রথমে তথ্য ও সংস্কৃতি এবং যুব ও ক্রীড়া,এরপর মৎস্য এবং নৌ-পরিবহন , ধর্ম ও আইন এবং সমাজ কল্যাণ। সর্বশেষ ১১টা ৪৫ মিনিটে সমাপনী অনুষ্ঠান।
সর্বমোট ৩৮টি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়ে চারদিনের অধিবেশনে আলোচনা হবে। এই আলোচনা থেকে সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। আর মাঠ পর্যায়ে ডিসিরা যেসব কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন তা সমাধানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল