বিডি নিউজ ৬৪: গুলশান হামলার ঘটনায় জড়িত নিহত জঙ্গি শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশের চাকরিদাতা মিলন নামে একজনকে গত রোববার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারপর থেকেই বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর অনেক অজানা তথ্য।
মিলনের কর্মস্থল আশুলিয়ার বিভিন্ন স্কুল, ভাড়া বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ি ঘুরে অনেক তথ্যেই পাওযা গেছে। মিলন মূলত জঙ্গিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকতো ও আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আর এইসব কাজ করার সুবিধার জন্য তারই ছাত্রী আশুলিয়ার দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার স্থানীয় নুর ইসলামের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে মিলন।
ইতোমধ্যে মিলনকে আদালতে প্রেরণ করে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিলনের বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা থাকলেও এখন পযন্ত জানায়নি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আরও দুই একদিন পর সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানায় আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে আশুলিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদিরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারকৃত মিলন আশুলিয়ায় এলাকার বিভিন্ন স্কুল কলেজে জঙ্গিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে। গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহত শফিকুল ইসলাম ওরফে বিকাশকে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় মাদারি মাদবর মেমোরিয়াল একাডেমি নামে একটি স্কুলে চাকরির ব্যবস্থা করে। তারা একসঙ্গে চাকরি করতো। তবে শফিকুল চলে যাওয়া পর মিলন পিয়ার আলী নামে একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকরি শুরু করেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের শোলাকীয়ায় হামলার ঘটনায় জঙ্গিদের সঙ্গে মিলনের সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, এ বছরের গত ৯ মার্চে স্কুলে যোগদান করেন মিলন। হঠাৎ করে গত ১৩ জুলাই সকালে স্কুলে দুইটি ক্লাস নিয়ে বাইরে চলে যায়। আর ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে মিলনের বিষয়ে শুনে নিজেরাও বিব্রতকর পরিস্থিতি আছেন বলে জানান।
এদিকে, মাদারি মাদবর মেমোরিয়াল একাডেমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০১৩ সালে মিলনের নিয়োগ দেয়া হয়। এর ৬ মাস পর শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনকে শিক্ষককে মিলনের সুপারিশে চাকরি দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৫ ডিসেম্বরের প্রথম দিকে শফিকুল চাকরি ছেড়ে দেয়। তার মধ্যে ২০১৬ জানুয়ারিতে নুর মোহাম্মদ নামে এক শিক্ষককে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করলে বাকি কয়েকজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দেয়। তারপর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। এরপর এ এলাকায় তাদের আর দেখেনি বলে দাবি করেন ওই প্রধান শিক্ষক। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল ধরনের কাগজপত্র দেখেই নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ডিবি পুলিশ নূর মোহাম্মদকে আটক করার পরই তিনি জানতে পারেন, তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে, মিলনের ভাড়া ভাড়িতে গিয়ে দেখা য়ায় রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তার স্ত্রী জহুরা বেগম পার্শ্ববর্তী এলাকা বাবা বাড়িতে উঠেছেন।
এ বিষয়ে মিলনের বাড়িওয়ালা মো. করিমের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রায় তিন মাস আগে শিক্ষক মিলন বাড়ি ভাড়া নেন। হঠাৎ করে গত বুধবার মিলনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে বলে খবর পান। শিক্ষক হিসেবে এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। তারা কখনো বুঝতেই পারেননি মিলন এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এর দুই একদিন পর তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
আশুলিয়ার দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার মিলনের শ্বশুর নুর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে মিলনের স্ত্রী জহুরা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালে মাদারি মাদবর একাডেমির শিক্ষক থাকাকালীন দশম শ্রেণির ছাত্রী জহুরা তাকে ভালোবেসে পরিবারের মত না থাকায় পালিয়ে বিয়ে করেন। তখন তারা মিলনের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে বসবাস করতে থাকেন। এই দম্পত্তির সন্তানের জন্ম নেয়ার পর জহুরার পরিবার তাদের মেনে নেয়। ফলে দীর্ঘ দেড় বছর পর আবার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় প্রায় তিন মাস ধরে পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।
মিলনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্ত্রী জহুরা দাবি, তার স্বামী মিলন জঙ্গি কর্মকাণ্ড বা তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। মূলত শফিকুলকে চাকরিতে সহযোগিতা করার ফলেই তার স্বামী গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। মিলন লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার বেতকিবাড়ি গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল