বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিডি নিউজ ৬৪: চাঁদপুরে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে জেলা পুলিশ। সর্বসাধারণের নিরাপত্তা জোরদার করতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ওই জেলার সাধারণ মানুষদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ বিভিন্নভাবে এর অপব্যবহার করতে পারে।

এ কারণে চাঁদপুর পৌর এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করছেন। রমজান মাস থেকেই চাঁদপুর পৌরসভায় পৌর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সমন্বয় কমিটি ও অঞ্চলিক কমিটির মাধ্যমে এ এলাকায় বসবাসকারীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বাসায়-বাসায় ফরম প্রদান শুরু করে। ঈদের পরে বিভিন্ন উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে পুরো জেলার অধিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরদিকে চলতি বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রথমে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের এমন ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হলে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে নানা শঙ্কা দেখা দেয়। অনেকে এ বিষয়টি পক্ষে-বিপক্ষে মতামত তুলে ধরেন।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। পরে ব্যক্তিগত তথ্য পুলিশের নেয়ার সুযোগ নেই দাবি করে এবং কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নামের সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীরা ছদ্মনামে অবস্থান করে নানা কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন বেশে অবস্থান করে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে সেজন্য বাসা-বাড়ির তথ্য পুলিশ নিচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের তালিকা পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, ইতোমধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত ১১ জুলাই জেলার ৮ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তারা প্রত্যেক বাসা-বাড়ির তথ্য এবং বসবাসকারী সবার তথ্য পূরণ করে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের অফিসে পাঠাবেন।

পুলিশের দেয়া ওই তথ্য ফরমে বাড়ির মালিকের যেসব তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে তা হচ্ছে: বাড়িতে নাইটগার্ড আছে কিনা, থাকলে কত জন। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের চাঁদা প্রদান করা হয় কিনা। ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছেন কিনা ও তথ্য সংগ্রহের তারিখ। এছাড়া বাড়ির সীমানা প্রচীর আছে কিনা, বাড়ির গেইট আছে কিনা এবং রাতে প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি বাল্ব জ্বালানো হয় কিনা।

তবে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো নারী বা ১২ বছরের নিচে কোনো ছেলে-মেয়ের নাম প্রদান করার প্রয়োজন নেই বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ভাড়াটিয়াসহ বাড়ির মালিকদের যেসব ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে তা হচ্ছে : নাম, বয়স, বাবার নাম, বাসা নং, পেশা ও ফোন নম্বর। ভাড়াটিয়ার নাম, ভাড়াটিয়ার বাবার নাম, বয়স, স্থায়ী ঠিকানা, পেশা, ছেলের নাম, বয়স ও পেশাসহ যোগাযোগের মোবাইল নম্বর।

এদিকে এমন তথ্য সংগ্রহ নিয়ে পৌর এলাকার বেশ কিছু মানুষের মাঝে রয়েছে কম-বেশি মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের আশঙ্কা রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে থানা পুলিশ অনেক সময় এসব তথ্য ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে। তাছাড়া অজ্ঞাত কোনো ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অনেককে আটক করে হয়রানি করা হবে কিনা।

কারণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং ভুলবশত বিনা কারণে আটক করে নির্যাতন করে অনেককে চিরতরে পঙ্গুও করে দিয়েছে। পরবর্তীতে এর বিচার তো দূরের কথা বিচার চাইতে গিয়ে আরো বেশি হয়রানির শিকার হয়েছে অনেকে।

সর্বসাধারণের এমন আশঙ্কা ও তথ্য সংগ্রহ প্রসঙ্গে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এ তথ্যের মাধ্যমে কারো হয়রানি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তবে যারা হয়রানিসহ ভিন্ন কিছু আশঙ্কা করছে মূলত তারাই অপরাধ করার জন্য ভিন্ন কিছু চিন্তা করছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, কেবল জননিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করেই তথ্য চাওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *