জামালপুরের ৮ ‘রাজাকারের’ রায় পড়া চলছে

বিডি নিউজ ৬৪: আলবদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আশরাফ হোসাইনসহ জামালপুরের ৮ জনের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৮৯ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওই আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুরে ১০ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় দুজন গ্রেপ্তার আছেন, পলাতক বাকি ৬ আসামি।

এই আট আসামি হলেন— গ্রেপ্তার জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক ওরফে ‘বদর ভাই’ (৭৫) ও সিংহজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এস এম ইউসুফ আলী (৮২) এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শরীফ আহাম্মেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. আশরাফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল বারী, হারুন ও মো. আবুল হাশেম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতায় পাঁচটি ঘটনায় হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাটের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এই আট আসামির বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে রায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ২৮৯ পৃষ্ঠার রায়ের সার সংক্ষেপ পড়া শুরু করেন। এর পর বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী রায়ের বাকি অংশ পড়বেন এবং সবশেষে বিচারপতি আনোয়ারুল হক সাজা ঘোষণা করবেন।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এটি ২৫তম রায়।

গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত ৯২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জামালপুরের উক্ত আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম, লুটপাট, নির্যাতন ও অপহরণসহ ১০ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের পাঁচটি অভিযাগ পাওয়া গেছে।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৬ পাতার দালিলিক প্রমাণ এবং ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের সময়কাল ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

যুদ্ধকালে আসামিরা জামালপুরে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা, ৫০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *