বিসিবির এইচপি ক্যাম্প শুরু

বিডি নিউজ ৬৪: রোযার মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়েছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। তারপর থেকেই বিশ্রামে ছিলেন  ক্রিকেটাররা। তবে রোববার থেকে দেশের উদীয়মান ক্রিকেটারদের উন্নত প্রশিক্ষণার্থে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের ক্যাম্প শুরু হয়েছে।

এদিন সকাল ৯টায় একাডেমি ভবনে মিটিং শেষে জিমনেশিয়ামে ফিটনেস টেস্ট দিয়েছেন ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৫ ক্রিকেটার। প্রথম দিন মূলত ফিটনেস নিয়েই কাজ করা হয়েছে। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের ন্যাশনাল ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিমের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

আগের দিন শনিবার বিকালে মিরপুরের একাডেমি ভবন মাঠে এইচপির স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ কোরে বুকিংয়ের কাছে রিপোর্ট করেছেন ক্রিকেটাররা। সকালে জিমনেশিয়ামে ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার পর গল্প আর আড্ডায় কেটেছে তাদের কিছুটা সময়। এরপর দ্বিতীয় সেশনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে তাদের বিপ টেস্ট।

তবে এ ক্যাম্প শুরু হয়েছে এইচপির প্রধান কোচ সায়মন হেলমটকে ছাড়াই। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ত্রিনিবাগো নাইট রাইডার্সের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন তিনি। সিপিএলে কাজ শেষ হলেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে হেলমটের।

রোববার ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিসিবির সহ-সভাপতি ও এইচপি প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম। উদ্বোধন শেষে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আজ (রোববার) থেকে আমাদের এইচপি ক্যাম্প শুরু হলো। জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় প্রস্তুত করা আমাদের এ কার্যক্রমের একমাত্র লক্ষ্য। যখন যেখানে প্রয়োজন মনে হবে সেটি সংযোজন করা হবে এই প্রোগ্রামে। বিশেষ করে এ কার্যক্রমে বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ আনার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে আমাদের।’

এদিকে আগামী বুধবার থেকে মিরপুরেই শুরু হবে ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। দুটি ইউনিটের অনুশীলন একত্রে একই জায়গায় হওয়ায় সমস্যা হবে না বলেও মনে করছেন তিনি। এ বিষয়ে এইচপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনে চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটে গিয়ে ক্যাম্প পরিচালনা করবো। যেভাবে হলে ভালো হবে সেভাবেই আমরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করবো।’

এবারের এইচপি ক্যাম্প চলবে মোট ৯ সপ্তাহ। কয়েক ধাপে এর কাজ করা হবে। প্রথম ধাপে ফিটনেস নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান এইচপির স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ কোরে বকিং, ‘আমাদের ক্যাম্পটি সংক্ষিপ্ত সময়ের। সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে থাকছে ফিটনেস নিয়ে নিবিড় কাজ করা। এরপর সবার ব্যক্তিগত স্কিল নিয়ে কাজ করা হবে। এমনকি ম্যাচের পরিস্থিতিতে সে অনুযায়ী অনুশীলনও করা হবে। তবে ক্যাম্পের শেষ দিকে থাকবে কিছু ম্যাচ খেলা।’

স্কোয়াডের বেশ কয়েকজনের এই ধরনের ক্যাম্প বা ফিটনেস নিয়ে নিবিড় কাজের সঙ্গে আগে তেমন একটা পরিচয় নেই। বকিং জানালেন, তাদের জন্য থাকবে আলাদা সূচি। বকিংয়ের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য কিছু রসদের জোগান দিতে পারবে এবারের ক্যাম্প।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফিটনেস নিয়ে কয়েকটি পর্যায় থাকবে আমাদের। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, কয়েকজন খুব ভালো অবস্থায় আছে। কয়েকজনের ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজের প্রয়োজন আছে। ওদের উন্নতির জন্য আলাদা করে ব্যক্তিগত প্রোগ্রাম করে দেওয়া হবে। আমাদের পরিকল্পনা এই ক্রিকেটারদের অন্তত কয়েকজনকে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। আগামী দুটি মাস এটিই আমাদের এ ক্যাম্পের লক্ষ্য।’

এইচপি স্কোয়াড:

টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান: সাদমান ইসলাম, মেহেদি মারুফ, আব্দুল মজিদ। মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান: মেহেদি হাসান মিরাজ, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, আল আমিন, তাসামুল হক, সালমান হোসেন। অলরাউন্ডার: মেহেদি হাসান, সাইফুদ্দিন, আলাউদ্দিন বাবু। স্পিন বোলার: সানজামুল ইসলাম, নূর হোসেন মুন্না, তানভীর হায়দার, সাকলাইন সজিব। পেস বোলার: আশিকুজ্জামান, মেহেদি হাসান রানা, শুভাশিস রায়, নূর আলম সাদ্দাম, আবু হায়দার রনি, দেওয়ান সাব্বির, এবাদত হোসেন চৌধুরী। উইকেটরক্ষ: জাকির হাসান, ইরফান শুক্কুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *