কান্দিলের মৃত্যু নিয়ে পাকিস্তানে বিতর্ক, পাশে আছেন রিচা

বিডি নিউজ ৬৪: পরিবারের সম্মান বিকিয়ে দেয়ার অপরাধে নিজের ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন পাকিস্তানের বিতর্কিত মডেল কান্দিল বেলুচ। তার মৃত্যুর পর পাকিস্তানে সামাজিক যোগযোগের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে অসংখ্য তরুণের। চলন-বলনের দায় দিয়ে একজন নারীকে মেরে ফেলা যে ভয়ঙ্করতর অপরাধ এই বিবেচনা বোধটায় পাকিস্তানী অধিকাংশ মানুষকে ছুঁয়ে যাচ্ছে না। কেউ কেউ প্রতিবাদ জানিয়েছেন সত্য কিন্তু তা খুবই সামান্য। তবে এই ঘটনা ছুঁয়ে গেছে বলিউডের ‘মাসান’ খ্যাত তারকা অভিনেত্রী রিচা চাড্ডাকে।

ভাইয়ের হাতে মডেল কান্দিলের মৃত্যুর পর সোশাল সাইটে পাকিস্তানি তরুণ তরুণীর আনন্দ আর এমন উচ্ছ্বাস পাকিস্তানে বর্তমানে বেড়ে উঠা প্রজন্ম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনায় তৈরি করে দেয়। অনেকে ফেসবুকে লিখেছেন, কান্দিল সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ক্ষুধার্ত ছিল। তার এভাবেই মৃত্যু হওয়া উচিত ছিল।

কান্দিলের মৃত্যুর পর  সানা নামের এক তরুণী টুইটে লিখেন, আনন্দ সংবাদ। কান্দিল বাজে মেয়ে ছিল। তাকে তার ভাই আজ হত্যা করেছে।

কান্দিল বেলুচকে মেরে ফেলায় তার ভাই ওয়াসিম বেলুচকে ‘নায়ক’ আখ্যা দিতেও দেখা গেছে অনেক পাকিস্তানি তরুণকে। তাদের ভাষ্য, এমন বখে যাওয়া তরুণীর জন্য মৃত্যুই নাকি উপযুক্ত শাস্তি।

পরিবারের সম্মান রক্ষায় কাউকে মেরে ফেলার মত জঘন্য ঘটনাটিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ খ্যাত অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। ফেসবুক ও টুইটে কান্দিলের মৃত্যুর পর একাধিক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সমাজে নারীর হেয়কর অবস্থার কথা তুলে ধরে রিচা চাড্ডা বলেন, গর্ভে যখন ভ্রুণ অবস্থায় জানা যায় যে সেটা কন্যা সন্তানের ভ্রুণ তখন তাকে মরতে হয় বাবার হাতে। বড় হলে পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে মরতে হয় ভাইয়ের হাতে। তারপর স্বামীর ঘরে যেয়ে মরতে হয় যৌতুকের জন্যে।

উপমহাদেশে নারীদের সবার অবস্থা একই জানিয়ে রিচা আরো বলেন, নারীর জানা উচিত তাদের নিজেদের চেয়ে এই সমাজে তাদের সম্মানটা বেশি গুরুত্বের। জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নারীর জীবন আসলে নারীর নয়।

রিচার মত পাকিস্তানে নব্য প্রজন্মের এমন আচরণ মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। একটু প্রগতিশীল যারা চিন্তা করেন তাদের মতে কান্দিলকে শুধু তার পরিবার কিংবা তার ভাই হত্যা করেনি। তার মৃত্যুর জন্য গোটা জাতি দায়ি। কারণ মাত্র সতের বছর বয়সে কান্দিলকে তার অমতে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছিল। নারী বোঝদার হলেও পাকিস্তানে তার জ্য কোনো স্বাধীনতার অবশিষ্ঠ রাখেনি। তেমন কার্যকরি আইনও নেই। ফলে পাকিস্তানে নারী পরিবারের একটু অবাধ্য হলেই প্রায়শই খুন করার ঘটনা ঘটে।

শুধুমাত্র বখে যাওয়ার অজুহাতে নয় পাকিস্তানে সাধারণ কলেজ পড়ুয়া মেয়েকেও প্রেম করার দায়ে খুন হতে হয়েছে নিজের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা। আর এমন ঘটনা হচ্ছে হরহামেশায়। আর এগুলো হচ্ছে ‘অনার কিলিং’-এর নামেই। বিশিষ্টজনরা বলছেন দ্রুত এইসব খুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন হত্যার সংখ্যা দিনকে দিন আরো বেড়েই চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *