বিডি নিউজ ৬৪: সরকারকে উদ্দেশ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি, কথা বলার ক্ষমতা থেকে মানুষ যখন বঞ্চিত হয়, সরকার যখন গণতন্ত্রের আদর্শ থেকে দূরে সরে যায়, তখনই জঙ্গি হামলার মত সমস্যা দেখা দেয়।’
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও শান্তি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠায় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য চাই’ শীর্ষক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজনে ২০টিরও অধিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
এতে ডা. জাফর উল্লাহ বলেন, ‘জঙ্গিরা যা করছে, এটা একটা প্রতিবাদ। যদিও ভাষা ও পদ্ধতি ভুল। কিন্তু কেন এর উদ্ভব হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। সুতরাং সরকারকে তার বলপ্রয়োগ মনোভাব থেকে দূরে আসতে হবে। সুকৌশলে সবার সঙ্গে আলোচনা ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে তাদের দমন করতে হবে। যেহেতু সাধারণ মানুষ এর বেশি ভুক্তভোগি, তাই তাদের কথা আগে ভাবতে হবে।’
মানববন্ধনে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্তে বেশ ফাঁরাক আছে। আমাদেরও মনে রাখতে হবে সৌদি আরব কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রের মুসলমান আর আমাদের দেশের মুসলমানের সেন্টিমেন্ট এক নয়, ধর্মীয় চেতনাও এক নয়। সুতরাং জঙ্গি নিধনে সেসব রাষ্ট্রের সরকারের মতো করে ভাবলে হবে না। আমাদের দেশের মানুষ কীভাবে, তা শুনতে হবে।’
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ‘ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘খুৎবা’ নির্ধারণ করে দেয়া হলো। মনে রাখতে হবে, এটা রাষ্ট্রের কাজ না, এটা মুসল্লিদের কাজ। একারণে রাষ্ট্র জনগণের হীন দৃষ্টির সম্মুখীন হয়েছে।’
এসময় কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ। এখানে বহু মত ও পথের সুযোগ আছে। তাই কোনোভাবেই জঙ্গিরা বাসা বাঁধতে পারবে না। তবে এসব নিরসনে ঐক্যের প্রয়োজন। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তা শুধুমাত্র প্রশাসনের ওপর তা ছেড়ে দিলে চলবে না।’
বাংলাদেশ নির্বাচনের কমিশনের সাবেক কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মতবাদ যদি সন্ত্রাসে রূপ নেয় তা আর মতবাদ থাকে না। আর সে কারণে তাকে পরিহার করতে হবে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের কারণ হিসেবে বিভাজিত রাজনীতিই দায়ী।’ জঙ্গিবাদ নিরসনে এ বিভাজন কমাতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘গুলশানে হামলা মোকাবেলায় সরকারের কোনো কৃতিত্ব নাই, বরং ব্যর্থতা আছে। কেননা, এ অপারেশনে জিম্মি কাউকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। যারা বেঁচেছেন তারা মূলত ওই রেস্তরাঁর কর্মী। যাদের আগে থেকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। রাত ৮টায় জঙ্গিরা আক্রমন করেছে সেটা মোকাবেলা করতে কেন সকাল ৮টায় কমান্ডো বাহিনী আসলো এটাও প্রশ্নের বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘যখন রাষ্ট্রে আদর্শিক শূন্যতা দেখা দেয় তখন তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নেয়ার সুযোগ পায় রাষ্ট্রবিরোধীরা। আমাদেরও দেশে এখন সে শূন্যতা বিরাজ করছে। এখন আর কেবল মাদরাসার সন্তানেরা এসব কাজে যুক্ত হচ্ছে না, উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চবিত্তদের সন্তানেরাও এসব কাজে যুক্ত হচ্ছে। লোভে নয়, এদের ‘ব্রেন ওয়াস’ করে সেসব পথে নেয়া হচ্ছে। সুতরাং অনেক ভাবার আছে। ’
এসময় সুজনের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি পেশ করা হয়। তার মধ্যে জঙ্গিবাদী তৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা; তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা; জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও শান্তি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠায় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা; ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করণসহ রাজনীতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করা; রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল