বিডি নিউজ ৬৪: পৃথিবীর রূপ রঙ দর্শণে দৃষ্টিশক্তি অপরিহার্য। দূরের এবং কাছের জিনিস দেখার জন্যও চোখে রয়েছে ক্যামেরার মতো লেন্স। দূরের ও কাছের জিনিসকে স্পষ্ট দেখতে সেই লেন্স সংকোচিত ও প্রসারিত হয়। তবে লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে গেলে আমরা চোখে ঝাপসা দেখি। এমনকি পুরোটা ঝাপসা হলে কোনো কিছুই হয়তো দেখতে পাইনা। লেন্সের এই ঝাপসা হয়ে যাওয়া সমস্যার নাম ছানি পড়া বা ক্যাটারাক্ট।
বৃদ্ধ বয়সে যত লোক অন্ধ হয় তার বেশির ভাগই চোখে ছানি পড়ার কারণে হন। তবে এই অন্ধত্ব স্থায়ী নয়, সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে রোগী আবার দৃষ্টি ফিরে পায়। জন্মগত ভাবেও অনেক শিশু ছানিপড়া চোখ নিয়ে জন্মাতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগটি বৃদ্ধ বয়সে হতে দেখা যায়। সাধারনত ৫০ বছর বয়সে পড়তে শুরু করে, এই বয়সের আগেও ছানি পড়তে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের সুগার অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এ রোগ হওয়ার অশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। অনেক সময় চোখে আঘাত পেলে, রেডিয়েশনের কারণে, চোখে কোনো প্রকার কেমিক্যাল লাগলে কিংবা বিদ্যুতায়িত হওয়ার কারণেও এই রোগ হতে পারে।
চোখে ছানি পড়া শুরু করলে প্রাথমিক পর্যায়ে সবকিছু ঝাপসা দেখা যায়। অনেক সময় কোনো জিনিসের দুইটি করে প্রতিবিম্ব দেখা যায়। কখনো আবার চোখে রংধনুর রঙ ভেসে ওঠে। এসব রোগীরা সাধারনত সন্ধ্যায় বা রাতের অন্ধকারে কিছুটা ভালো দেখে। তবে ছানি যখন পরিপক্ক হয়ে যায় রোগী তখন তার দৃষ্টি ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে।
ক্যটারাক্ট বা চোখের ছানির জন্য অবশ্যই একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করাতে হবে। ছানি পরিপক্ক হয়ে গেলে অপারেশনই এর একমাত্র চিকিৎসা। অপারেশন করে চোখের ভেতর লেন্স লাগিয়ে নিলে রোগী আবার আগের মতো দেখতে পারে। ফ্যাকো সার্জারির মতো আধুনিক সার্জারি চোখের ছানি পড়া রোগটির চিকিৎসা এখন আরও সহজ।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল