১৪ দল মানেই ‘লুটপাট’

বিডি নিউজ ৬৪: আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন মহাজোটের জনবল ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেছেন, ‘১৪ দলে আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকী কোনো দলে ২ জন এক সাথে রিকশায় উঠার মতো নেতা নেই। ১৪ দল মানেই হল দেশটাকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধ্বংস করা, লুটপাট করে নিঃশেষ করে দেয়া।’

শুক্রবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় নাগরিক সংসদ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নিঃশর্ত জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন গয়েশ্বর।

গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) শর্তহীনভাবে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন। নেত্রীর ওই আহ্বানের সাথে সাথেই ইনু-মেননসহ যারা তার (প্রধানমন্ত্রী) আশেপাশে আছে, তারা ঘেউ ঘেউ করে উঠল। এটাকে দেশবাসী ভালোভাবে নেয়নি। কারণ, তারা বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের মুখ বন্ধ ছিল। প্রথম দুই-তিনদিন জামায়াত-শিবির-বিএনপির নামও বলেনি। এরপর ১০ দিন রিহার্সেল দিয়ে মাঠে নামলেন নাসিম-ইনুরা। সবার ভাষা এক ও অভিন্ন। বলতে শুরু করলেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদী।’

গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘সরকারপ্রধান যদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সমগ্র জাতিকে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিতে চান, তাহলে তিনি জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানাবেন। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে স্বাভাবিকভাবেই সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের এ আহ্বান জানানোর কথা। এ ক্ষেত্রে তিনি কাদের আমন্ত্রণ জানাবেন অথবা জানাবেন না, সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু তারা (ক্ষমতাসীনরা) শর্ত দিল- ওমুক থাকলে হবে না, তমুক থাকলে হবে না। আসলে শর্ত দেয়ার মানেই হলো, মূল ঘটনা থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করা।

ক্ষমতাসীন মহাজোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘১৪ দলে আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি ১৩ দলে ২ জন এক সাথে রিকশায় ওঠার মতো কোনো নেতা নেই। সবই তো একা একা। এদের মধ্যে মানুষ অনেক দলের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির নামও জানে না। আসলে ১৪ দল মানেই হলো- ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে ধ্বংস করা, লুটপাট করে নিঃশেষ করে দেয়া।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইনুর হাত-মুখ ও শরীর রক্তাক্ত। বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত এই ইনুর নেতৃত্বে অসংখ্য লোককে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারও অনেক লোককে মেরেছে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘বিএনপি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত ইনু কত লোক মারলো, আর সরকার ইনুর (জাসদ) কত লোককে মারলো- তার একটি তালিকা তৈরি করা হবে। কাজী আরিফকে কে হত্যা করেছে, সেটা জাসদসহ দেশবাসী সবাই জানে। অথচ সেই ইনু আজ ছবক দেয়। অবশ্য এটা ছাড়া তার কোনো পথও নেই। ইনু হয় হাসিনার দ্বারা ব্ল্যাকমেইল হচ্ছে, অথবা হাসিনাকে ব্ল্যাকমেইল করছে।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপিকে গালাগালি করার জন্য ইনুকে লাগে নাকি? আওয়ামী লীগেই তো অনেক লোক রয়েছে, যারা বিএনপিকে নিয়মিতই গালাগাল করছে।’

ইনুকে ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, ‘আশপাশে একটা খুনিকে রেখে উনি (প্রধানমন্ত্রী) ছবক দেন আর জাতি তা শোনার জন্য প্রস্তুত থাকে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। কারণ, জনগণ এখন অনেক সচেতন।’

জাতীয় নাগরিক সংসদের সভাপতি খালেদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *