৮০ সংগঠন নিয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি

বিডি নিউজ ৬৪: সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ ৮০টি সংগঠন নিয়ে রাজশাহীতে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। ‘রুখো জঙ্গিবাদ-বাঁচাও বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহী ১৪ দলের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

গঠিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে। প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে।

কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ১৪ দলের রাজশাহীর সমন্বয়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের এমপি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, মোশারফ হোসেন আখুঞ্জি, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু প্রমুখ। এছাড়া জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ রাজশাহীর বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, কমিটি গঠনের পর তৃনমূল পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে। রাজশাহীর যেকোনো সংগঠন এই কমিটির মধ্যে থাকবে। সকল সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা মূল কমিটিতে থাকবেন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে দিক নির্দেশনা দিবেন।

তিনি বলেন, এটা একটা গণ প্রতিরোধ। এই গণপ্রতিরোধ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুথানের সৃষ্টি করবে। সেই সাথে জঙ্গিবাদের মদদদাতা বেগম খালেদা জিয়া ও তার সাথে জামায়াতে ইসলামের সব চক্রান্ত দূর হয়ে যাবে। তাদের পতন রচিত হবে। তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বাংলাদেশে টিকবে না। মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি টিকে থাকবে।

এরপর তিনি জঙ্গিবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলোর নাম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সংগঠন, আইনজীবী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সরকারি কলেজ শিক্ষক কমিটি, সকল কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ, দলিল লেখক সমিতি, রাজশাহী প্রেসক্লাব, রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক, রেশম মালিক সমিতি, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স, আরডিএ ব্যবসায়ী সমিতি, বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি, ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদ, বিভিন্ন ঠিকাদার সমিতি, মহিলা পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনসহ ৮০টি সংগঠন। এছাড়া আরও কোনো সংগঠন জঙ্গিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাড়া দিতে চাইলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সকল জঙ্গি গোষ্ঠী এক। এরা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা করে। দেশে বর্তমানে ইসলামের নামে যা হচ্ছে, তা কোনো ভাবেই সমালোচনা করা যায় না। বাংলাদেশের ইসলাম সব সময় উদার। বাংলাদেশে আজ যদি ইসলামের নামে হানাহানি হয়, তাহলে কীভাবে সেটা ইসলাম হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা কোনো লড়াইয়ে হারিনি। এ লড়াইয়েও আমরা জিতবই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হবে। আমাদের মূল কাজ হবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা। যারা এসব অপরাধ করবে তাদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। এজন্য যারা দেশকে ভালোবাসে, দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসতে চায় তাদের নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *