১০ ঘণ্টায়ও খোঁজ মিললো না শিশু সানজিদার

বিডি নিউজ ৬৪: রাজধানীর দক্ষিণ মহাখালীতে খালে পড়ে যাওয়ার দশ ঘণ্টার চেষ্টায়ও উদ্ধার হয়নি  ছয় বছরের শিশু সানজিদা। রাত সাড়ে ১১টার পর উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবার শুরু হবে।

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই খালের পাশে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায় ভ্যানচালক শাহ আলমের মেয়ে সানজিদা। তামিম নামের এক প্রতিবেশী শিশুর সঙ্গে শাক নিয়ে খেলার সময় পানিতে পড়ে যায় সে।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শাহ আলম ও রুবি আক্তারের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সানজিদা। দুপুরের খাবার খেয়ে খেলতে যায় সে। এর কিছু সময় পর খেলারসঙ্গী তামিম দৌড়ে এসে তার পানিতে পড়ে যাওয়ার খবর দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন স্থানীয় যুবক পানিতে নেমে খোঁজ করে। কিছু সময় পর সানজিদার জুতা ভেসে ওঠে। কিন্তু তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় তারা।

এরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। বেলা ৩টা থেকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযানে নামে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শেখ আরিফুজ্জামান।

তিন জন ডুবুরিসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা দশ ঘণ্টা ওই খালের ময়লা পানিতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু শাহ আলমের বাসা থেকে বেশ খানিকটা দূর পর্যন্ত ডুবুরিরা খোঁজাখোজি করেও সানজিদার কোনো সন্ধান পায়নি।

ডুবুরিরা টানা কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় রাত সাড়ে ১২টায় উদ্ধার কাজ স্থগিত করেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মোজাম্মেল হক। তিনি রাত সাড়ে ১১টায় উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, টানা কাজ করে ডুবুরিরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাদের নাস্তা করার জন্য বিরতি দেয়া হয়েছে। এরপর আর কিছুক্ষণ কাজ উদ্ধার অভিযান চলবে। প্রচুর ময়লা থাকায় এখানে উদ্ধার অভিযান চালানো ডুবুরিদের জন্য অনেক কঠিন। কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল ৭টার দিকে আবার উদ্ধার কাজ শুরু হবে।

উপ পরিচালকের ঘোষণার পর আবার ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযানে নামলেও রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধ করে দেয়া হয়।

উদ্ধার অভিযানে কাজ করা ডুবুরি তিন জন হলেন মাসুদ, জাহিদুল হক ও এনামুল। তারা সবাই অনেক পারদর্শী বলে জানান মোজাম্মেল হক। ড্রেনে প্রচুর ময়লা না থাকলে শিশুটি উদ্ধার করতে এতো সময় লাগতো না বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *