বিডি নিউজ ৬৪: ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জি এম জিলানী শুভ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা আজ ভর্তি বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনিতো আপনার সোনার ছেলেদের কিছু বলতেও পারবেন না। আপনি আনেক কিছুর নাম পরিবর্তন করেছেন। বিডিআর বিদ্রোহের পর নাম পরিবর্তন করে বিজিবি করেছেন। তেমনিভাবে ছাত্রলীগ নাম পরিবর্তন করে ‘বাণিজ্যলীগ’ রাখুন।’
ছাত্রলীগ কর্তৃক একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বাণিজ্য চলছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকীকরণ করে সেই বাণিজ্যে ছাত্রলীগকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।’
বুধবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংগঠনের উদ্যোগে দেশে ছাত্রলীগের চলমান ভর্তি বাণিজ্য বন্ধের প্রতিবাদে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
জিলানী শুভ বলেন, ‘আজ অভিভাবকদের বলা হচ্ছে নিজেদের ছেলেদের খোঁজ খবর নিন। তাহলে ছাত্রলীগ যে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে তার ব্যাপারে আপনারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন?’
অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘গত মাসের ২২ তারিখে যখন ভর্তি শুরু হয় তখন প্রথম মেধা তালিকায় ভালোভাবেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু যখন দ্বিতীয় মেধা তালিকায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় তখনই কলেজ থেকে ছাত্রলীগের নেতারা শত শত ফরম ছিনতাই করে নেয়। এবং এই ফরম প্রকাশ্যে (বিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি ২০ হাজার, মানবিকে ২৫ হাজার ও বাণিজ্যে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত) বিক্রি করা হয়।’
জিলানী বলেন, ‘কবি নজরুল কলেজে গিয়ে আমাদের সহকর্মীরা দেখেন, প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে সব ফরম ছাত্রলীগের সভাপতি আর সেক্রেটারি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে। সোহরাওয়ার্দী কলেজেও একই চিত্র দেখা যায়।’
ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘আপনারা (আওয়ামী লীগ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন। সরকারের সকল মন্ত্রী-এমপিরা যেখানেই কথা বলেননা কেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বক্তৃতা শুরু করেন। আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই- ১৯৭১ সালে যে ছেলেটি পড়ালেখা ফেলে যুদ্ধে গিয়েছিল, সেই ছেলেটি বই খাতা ফেলে কেন হাতে বন্দুক তুলে নিয়েছিল? কারণ, পাকিস্থানীরা আমাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিল। তারা শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করতে চেয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আজ ২০১৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের সরকার সেই একই কায়দায় শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে। অবিলম্বে এ বাণিজ্য বন্ধের পদক্ষেপ নিন। তা না হলে ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে সাধারণ ছাত্রদের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
নেতারা বলেন, সরকারের নেতা কর্মীরা শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে এদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করছে। আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ঘটছে সেইসব কলেজের আমলা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ইউনিয়ন নেতারা।
ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি অনিক রায়ের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সেন গুপ্ত, ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কে এম রাব্বি ও লালবাগ থানা সভাপতি রকনুজ্জামান রতন প্রমুখ।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল