মেহেরপুরে গরু ব্যবসায়ীদের সব পুঁজি লুটে নিল ডাকাতরা

বিডি নিউজ ৬৪: মেহেরপুর-কুষ্টিয়া প্রধান সড়কের গাংনী উপজেলার আকুবপুর চটকাতলা এলাকায় গরু ব্যবসায়ীদের সব পুঁজি লুটে নিয়েছে ডাকাতরা।

মঙ্গলবার রাতে রাস্তায় গাছ ফেলে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতির ঘটনায় ব্যবসার সর্বস্ব হারিয়েছেন কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগীরা জানান, ছিনতাইকারীরা গরু ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের ক্ষুদ্র পুঁজির সবই কেড়ে নিয়েছে। সাতজন গরু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত এক মাসে তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটলো।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ উপজেলার কামারখালী ও শিমুলতলা গ্রামের কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী দুটি ট্রাকে রংপুরের বড়বাড়ীয়া গো-হাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নিজ গ্রাম পার হয়ে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গাংনী উপজেলার শেষ সীমান্ত খলিশাকুণ্ডি ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছলে ডাকাতির কবলে পড়েন। কয়েকজন ডাকাত সদস্য আগে থেকেই সেখানে সড়কে গাছ ফেলে দুপাশে কয়েকটি যানবাহন আটকে রেখেছিল। গরু ব্যবসায়ীদের বহন করা দুটি ট্রাকের চালক গাছ ফেলা দেখে ট্রাক ঘুরিয়ে পেছনের দিকে আসার চেষ্টা করে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র হাতে করে কয়েকজন ডাকাত সদস্য ট্রাক দুটিতে আক্রমণ করে। ট্রাকে থাকা গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাদের মারধর করে। এ সময় কামারখালী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের দুই লাখ ৩০ হাজার, পানু মিয়ার ৫০ হাজার ও মহির উদ্দীনের কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকাসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এদিকে, শুধু গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নয়, ঢাকাগামী একটি পরিবহনের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মালামাল লুটে নেয় ডাকাতরা। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে ডাকাতদের তাণ্ডব চলায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে বামন্দী, কুমারীডাঙ্গা ক্যাম্প পুলিশ ও গাংনী থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক ঘিরে ফেলে। কিন্তু তার আগেই সটকে পড়ে ডাকাতরা।

ডাকাতির কবলে পড়ে ব্যবসার সব পুঁজি হারিয়ে ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাদের পরিবারে এখন শুধুই কান্নার রোল। এ অবস্থায় কীভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাবেন তা ভেবে কোনো কুল-কিনারা পাচ্ছে না তারা। ডাকাতদলের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও ডাকাতি হওয়া টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল থেকে জানান, পুলিশের তৎপরতায় রাস্তার গাছ সরিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা বের করে গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই সব ক্যাম্পগুলোকে সতর্ক করে ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে গতরাত দুইটার দিকে এ সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পশুর হাট থেকে গরু কেনাবেচা করে এলাকার ব্যবসায়ীরা বাড়ি ফেরার কারণে সন্ধ্যা থেকে ছাতিয়ান-বামন্দী সড়কে কুমারীডাঙ্গা পুলিশের টহল ছিল। পুলিশ যখন একেকটি করে গরুর গাড়ি পার করছিল তখন ডাকাতিস্থলে পুলিশের টহল ছিল না। আর এ সুযোগ কাজে লাগায় ডাকাতরা। তবে এ উপজেলার ডাকাতির ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে ওই চটকাতলা অন্যতম। তাই সেখানে নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন আমতৈল-ভোলাডাঙ্গা মাঠের মধ্যে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী আহত হন। আলমডাঙ্গা গো-হাট থেকে ফেরার পথে আমতৈল-ভোলাডাঙ্গা গ্রামের মাঠের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এর কয়েকদিন পরে একই সড়কের সিন্দুরকোটা-শিমুলতলা মাঠের মধ্যে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয় কয়েকজন ছিনতাইকারী। দীর্ঘদিন পরে ওই সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ওই এলাকার ব্যবসায়ীসহ পথচারীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী লালানসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তারা এখন জেল হাজতে। তবে ডাকাতদলের সদস্যদের আরো কে কে এলাকায় অবস্থান করছে এবং তার তৎপরতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে গ্রেপ্তার অভিযান বাড়ানোর দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *