বিডি নিউজ ৬৪: নীলফামারীর ডোমারে খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমে বোরো ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষি কাজের সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের নাম কৃষকদের তালিকায় তুলে তাদের নামে ধান সংগ্রহ করছে এক শ্রেণির চালকল মালিক ও ফড়িয়ারা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত কৃষকরা। ব্যাহত হচ্ছে কৃষকবান্ধব সরকারের ভাবমুর্তি ।
অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি উপজেলার ধান সংগ্রহ লক্ষমাত্রা, উৎপাদন ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়ন ওয়ারী বিভাজন করবে, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া তালিকা হতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কৃষক নির্বাচন করবে। তাদের নিকট হতে পণ্য সংগ্রহ করার লক্ষ্যে নীতিমালা অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করে দিবে। উপজেলা কমিটি পণ্যের পরিমাণসহ নির্বাচিত উৎপাদক-কৃষকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংগ্রহ কেন্দ্রে প্রেরণ করবে এবং এ তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করবে। সংগ্রহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড/ জাতীয় পরিচয় পত্রের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত কৃষকদের সনাক্ত করবেন। তালিকার বাইরে কোন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা ফড়িয়ার নিকট হতে ধান ক্রয় করা যাবে না। গত ৫ই মে হতে ৫ই জুনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কৃষকদের ধানের মূল্য সংশ্লিষ্ট কৃষকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করবে। এবার সরকারীভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ২৩ টাকা। কৃষকদের গুদামে ধান বিক্রয়ে উৎসাহিত করার জন্য সহজ-সরল ভাষায় ধানের বির্নিদেশ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি উল্লেখ করে গ্রাম পর্যায়ে মাইকিং, ঢোল সহরত ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করবে।
এদিকে ধান সংগ্রহে অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলার কৃষকরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা কৃর্ষি কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগে বলেছেন, কৃষি অফিস আদর্শ কৃষকদের নাম জানলেও মনগড়াভাবে ভূমিহীন, ভবঘুরে, ভ্যান চালক, বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবি, ভোটারবিহীন, বিশেষ উদ্দেশে কৃষি কাজে জড়িত নয় এমন ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এমনকি বিশেষ কারণে ইউনিয়নের কৃষকই নয়, তাদের পৌর কৃষক তালিকায় নাম দেওয়া হয়েছে। লটারী করার কথা বলা হলেও কৃষক তালিকায় প্রভাবশালীদের পরিবারের একাধিক সদস্য ও তাদের কর্মচারীদের নাম রয়েছে।
ডোমার পৌরসভার চিকনমাটির সমছের আলীর পুত্র কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, আমি লিখিত অভিযোগ করায় আমাকে বার বার অনেকে মারধরের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি কৃষি অফিসারকে আমার অভিযোগের কি হল জানতে চাইলে তিনিও মামলার হুমকি দেন, দুর্ব্যবহার করে নেতাদের কাছে যেতে বলেন। ধান সংগ্রহে সরকারী ভাবে কোনো প্রচারণা নাই ।
ডোমার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পূর্ব চিকনমাটির নইমদ্দীনের পুত্র কৃষক হামিদুল ইসলাম জানান, “ধান কাটাত (ওজন পরিমাপ যন্ত্র) দিনু, হাকাউ ফ্যান লাগাছে। এক পোয়া পাতান (ময়লা) বেরকাছে (বের করছে) ,সেলা (তখন) লেবারলা আসি (এসে) কছে (বলছে), ওমাক ( উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় )কিছু দাও ,সব ঠিক হবে । ১৫০০ টাকা দিনু (দিলাম ),সেলা (তখন) সব ঠিক ।
একই পৌরসভার ছোটরাউতার ৯ নং ওয়ার্ডের নিজাম উদ্দিনের পুত্র কৃষক মোতালেব ১৮০০ টাকা দেওয়ার একই অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারীভাবে কোন প্রচারণা না থাকায় সাধারণ কৃষকরা কখন ,কিভাবে গুদামে ধান দিতে হবে জানান না বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।
এ ব্যাপারে ধান ক্রয়ের কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃতুনজয় রায় বর্মন বলেন, এবার ডোমার খাদ্য গুদামে ২ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। চিলাহাটি খাদ্য গুদামে ৭৫০ মেট্রিক টন, ডোমার খাদ্য গুদামে ৭৫০ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে। আমি কৃষকদের চিনি না। কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে। প্রতি টনে ১৫০০ টাকা নেওয়ার কথা বললে তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাফর ইকবাল জানান, কম সময়ের কারণে কিছু ভুল হতে পারে। সামনের বছরে আশা করি নির্ভুল তালিকা করতে পারব। সাত হাজার কৃষকের তালিকা করেছি, তার মধ্যে দুই হাজার ৫৫ জনকে তালিকাভুক্তি করেছি ।
উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা জানান, কৃষি সহকারী কর্মকর্তা কৃষকদের তালিকা করেছেন। লটারী সঠিকভাবে করা হয়েছে। আমরা তাকে (কৃষি সহকারী কর্মকতা) শোকোজ করতে পারি। তা ছাড়া নতুন নিদেশনা এসেছে “এখন যে কোন কৃষক কৃষি কার্ড ও ন্যাশন্যাল আইডি কার্ড নিয়ে ধান দিতে পারে। এটা প্রচার করতে পারেন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল